রাত ১২:৩৯ | ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২৫শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ব্রেকিং নিউজ

সর্বস্থরের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য রাজ্জাকের মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে

বিনোদন ডেস্ক : সর্বস্থরের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য নায়করাজ রাজ্জাকের মরদেহ আনা হয়েছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। বেলা সোয়া বারোটায় মরদেহ শহীদ মিনারে নেয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই বিভিন্ন শ্রেণি পেশার ভিড় করতে থাকেন। এর আগে সকাল সাড়ে দশটায় এফডিসিতে মরদেহ নেয়া হয়। বেলা পৌনে বারোটায় এফডিসিতে রাজ্জাকের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় চলচ্চিত্রাঙ্গনের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

গতকাল সোমবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সন্ধ্যায় সোয় ছয়টার রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলা চলচ্চিত্রের এই কিংবদন্তী।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বে রাজ্জাককে গার্ড অব অনার দেয়া হবে। এরপর বেলা তিনটায় গুলশান আজাদ মসজিদে আরেকদফা জানাজা শেষে বনানী বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হবে ঢাকাই সিনেমার কিংবদন্তী অভিনেতা রাজ্জাককে।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের এই কিংবদন্তি অভিনেতা দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।

নায়করাজ রাজ্জাক প্রায় ৩০০টি বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। পরিচালনা করেছেন প্রায় ১৬টি চলচ্চিত্র। এই মহানায়কের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হলো বাংলা চলচ্চিত্রে এক উজ্জ্বল অধ্যায়ের।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের মোড় ঘোরানো অনেক ছবির কুশীলব-অভিনেতা নায়ক রাজ্জাক। আর এ জন্য তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনে ‘নায়করাজ’ উপাধিতে ভূষিত হন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা পদকসহ উল্লেখযোগ্য প্রায় সব পুরস্কারই পেয়েছেন এই গুণী অভিনেতা।

নায়করাজ রাজ্জাক বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে স্থাপন করেছেন অনেক মাইলফলক।  ‘অনন্ত প্রেম’ ছবি দিয়ে সূচনা করেন রোমান্টিকতার এক নতুন যুগের।  ‘রংবাজ’ ছবি দিয়ে শুরু করেন অ্যাকশন ঘরানার ছবি। এর আগে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ‘ওরা ১১ জন’ ছবিটি ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে প্রথম ছবি। স্বাধীনতার আগে ভাষা আন্দোলন নিয়ে তার অভিনীত ছবি ‘জীবন থেকে নেয়া’।

ময়নামতি, অশিক্ষিত, অভিযান, নীল আকাশের নিচে, অবুঝ মন, বেঈমানসহ বহু জনপ্রিয় ছবির এই অভিনেতা তার অভিনয় প্রতিভায় ঠায় করে নিয়েছেন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মনে।

১৯৪২ সালের ২৩ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের টালিগঞ্জে জন্ম নায়করাজ রাজ্জাকের, যার পারিবারিক নাম আবদুর রাজ্জাক। ১৯৬৪ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পাড়ি জমান তিনি। প্রথম দিকে রাজ্জাক তৎকালীন পাকিস্তান টেলিভিশনে ‘ঘরোয়া’ নামের ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করে দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হন। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে তিনি আব্দুল জব্বার খানের সাথে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান।

সালাউদ্দিন প্রডাকশন্সের ‘তেরো নম্বর ফেকু ওস্তাগর লেন’ চলচ্চিত্রে ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করে সবার কাছে নিজ মেধার পরিচয় দেন রাজ্জাক। পরবর্তীতে ‘কার বউ’, ‘ডাক বাবু’, ‘আখেরী স্টেশন’-সহ বেশ কটি ছবিতে ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয়ও করে ফেলেন। পরে ‘বেহুলা’ চলচ্চিত্রে তিনি নায়ক হিসেবে ঢালিউডে উপস্থিত হন সদর্পে। এরপর আর তাকে পেছনর ফিরে তাকাতে হয়নি। একে এক জনপ্রিয় সব ছবি উপহার দিতে থাকেন দর্শককে।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *