রাত ১২:২৯ | ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২৫শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ব্রেকিং নিউজ

সদরপুরে বন্যার পানি কিছুটা কমলেও বাড়ছে বানভাসি জনগণের ভোগান্তি ত্রানের জন্য হাহাকার

সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি ঃ ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে বন্যার পানি কিছুটা কমলেও বানভাসি জনগনের ভোগান্তি বাড়ছে। বিশেষ করে পদ্মার চরাঞ্চলের বানভাসি প্রায় ১০ হাজার জনগণ খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থান নিয়ে চরম দুঃখ কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তাদের ঘর বাড়ীতে চাল ছুই-ছুই পানি। ঘর বাড়ি ছেড়ে অনেকে পাড়ি জমিয়েছে বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে। গত ১৫দিন যাবত পানি বন্দি অবস্থায় তারা সাহায্য পেয়েছে মাত্র ১০কেজি চাল। তারপরও কিছু কিছু দুর্গম এলাকায় কোন সাহায্য পৌঁছেনি। উক্ত অঞ্চলের নলকুপগুলো ডুবে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ১টি ফাজিল মাদ্রাসা, ১টি হাইস্কুল ও ২৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ডুবে যাওয়ায় ছাত্র-ছাত্রীদের লেখা-পড়া বন্ধ হয়ে গেছে। দিনমজুর ও খেটে খাওয়া জনগন কর্মহীন হয়ে পড়েছে। তারা অর্থসংকটে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। গতকাল সোমবার নাড়িকেল বাড়ীয়া ও চরনাছিরপুর ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে বানভাসী জনগনের অভাবের করুন পরিস্থিতি। নাড়িকেলবাড়ীয়া ইউনিয়নের লালমিয়া সরকারেরকান্দি গ্রামের সিলিম সরকার জানান, তার ঘর-বাড়ি বানের ¯্রােতে ভেঙ্গে গেছে, পরিবারের ৬ জন সদস্য নিয়ে টংঘর তুলে অনাহারে-অর্ধাহারে কোন রকম বেঁচে আছি। একই ইউনিয়নের হাট নাড়িকেলবাড়ীয়া গ্রামের কৈতরি বেগম (৬৫) জানান, তার ঘরে চাল নেই, ডাল নেই ও ঘরে রান্নার মত কোন খড়ি নেই। তিন দিন যাবত চিড়ে খেয়ে বেঁচে আছি। ঘরে থাকার মত কোন জায়গা নেই। তাই মুন্সিরচর গ্রার্মের রাস্তার পাশে টংঘর উঠিয়ে কোন মতে বেঁচে আছি। চরনাছিরপুর ইউনিয়নের খলিফা কান্দি গ্রামের আলতাফ মোড়ল (৫৬) জানান, তার বসতঘর বানের ¯্রােতে ভেঙ্গে যায়। কিন্তুু কোন অবস্থাতেই আমার ঘর তোলার মত সামর্থ নেই, এমনকি আমার ৯ বছরের একটি ছেলে ইয়ামিনকে টাকার অভাবে চিকিৎসা দিতে পারছিনা। চিকিৎসার অভাবে ছেলেটি চোখের সামনে ধুকে ধুকে মরছে। এমন অভাবীয় শত শত মানুষের দুঃখ-কষ্ট দেখার মত কেউ নেই বলে তাদের অভিযোগ।
ছবি সংযুক্তঃ সদরপুর (ফরিদপুর) ১। নারিকেল বাড়ীয়া ইউনিয়নের বর্ন্যা কবলিত বেথুয়া সরকারী প্রাথমিক ২। ত্রানের খবর পেয়ে চরাঞ্চলের ছুটে আসছে বানভাসি মানুষ ৩। নূরউদ্দিন সরকারের কান্দি গ্রামের বন্যা কবলিত ঘরবাড়ি।

 

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *