রাত ১০:৫৮ | ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২৩শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ব্রেকিং নিউজ

শ্রীমঙ্গলে সরকারী কলেজে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ৭

স্টাফ রিপোর্টার :  মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল সরকারী কলেজে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের ৭ জন গুরুতর আহত হয়েছে। সংঘর্ষের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ দুজনকে আটক করেছে। মঙ্গলবার দুপুরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন-মসুদ গ্রুফের ইফতি,ইমন, ছাদিক, মেহরাব ও রাজ গ্রুপের কলেজ সভাপতি সুজাত, সম্রাট ও নয়ন। এরা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মাসুদ ও সাধারণ সম্পাদক রাজু গ্রুপের অনুসারী। এ ঘটনায় পুলিশ বহিরাগত সন্দেহে নেওয়াজ ও আশিক নামে দু’জনকে আটক করেছে। আটক দুইজন শ্রীমঙ্গল সরকারী কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে। তবে পাল্টা হামলা এড়াতে ক্যাম্পাসে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

জানা যায়, শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের পাশের দি বার্ডাস রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের এইচএসসি ২য় বর্ষের ছাত্র নিরব বেশ বেশকিছু দিন ধরে সরকারী কলেজে এসে শিক্ষার্থীদের পাঠ দানে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছিল। মঙ্গলবার সে কলেজে আসলে তাকে কলেজ থেকে বের করে দেয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পরই এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলেজ ক্যাম্পাসে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের মধ্য সংঘর্ষ শুরু হয়। এসময় ইফতি নামে এক ছাত্রকে ছুরিকাঘাত করলে সে গুরুতর আহত হয়। এতে উভয় গ্রুপের কমপক্ষে ৭ জন গুরুতর আহত হয়।

এসময় ছাত্রলীগের দুটি অংশই কলেজে আধিপত্য বিস্তারে প্রকাশ্যে রামদা, রড, হকিস্টিক, লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্রের মহড়া দেয়। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ কে এম নজরুল ইসলাম পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এব্যাপারে শ্রীমঙ্গল সরকারী কলেজের প্রিন্সিপাল প্রফেসর স্বপন কান্তি বড়ুয়া বলেন, এটা সম্ভবত একই ছাত্র সংগঠনের, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে একই সংগঠনের দুটি গ্রুপ। বহিরাগতদের নিয়ে গত দুই দিন যাবত কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতির সাথে কথা বলে আসছি।

তিনি বলেন, দি বার্ডস রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র নিরব ১০/২০ জন ছেলেকে নিয়ে এসে ক্লাসরুমে ঢুকে যেতে চায়। আজকেও মানবিক ক্লাসের ৯ নম্বর কক্ষে ঢুকেছে। তার সাথে একজন মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে নেয়। একটি ক্লাস শেষ এবং আরেকটি ক্লাস শুরুর ফাঁকে সময়টুকুতে এসব ঘটনা বেশ কিছুদিন ধরে ঘটে আসছে।

তিনি আরো বলেন, বহিরাগতদের কলেজে আসা বন্ধে গেইটে নোটিশ বোর্ড নোটিশ টাঙ্গানো হয়েছে। ১ জুলাই থেকে ক্লাস শুরু হওয়ায় নতুন ভর্তি হওয়া ছাত্ররা ইউনিফর্ম বানাতে পারেনি, কলেজ থেকে এই সময়ে আইডি কার্ড দেওয়া সম্ভব হয়নি। সে কারণে আজ থেকে কলেজ গেইটে লোক বসানো হবে। যাদের নাম, মোবাইল নং ঠিকানা আগমনের কারণ লিপিবদ্ধ করে রাখা হবে।

এ প্রসঙ্গে শ্রীমঙ্গল উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মসুদুর রহমান মসুদ মুঠোফোনে বলেন, ‘কলেজে নিরবকে নিয়ে কোন ঘটনা ঘটেনি। কলেজের প্রিন্সিপাল আমাকে ডেকে নেন কলেজে ঝামেলা হচ্ছে বলে। প্রিন্সিপাল স্যার আমাকে বললেন, বেশ কিছুদিন ধরে কলেজে বিভিন্ন বহিরাগত ছাত্র নিয়মিত আসছে। এতে লেখাপড়ার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। বহিরাগতরা যেন কলেজে না আসে সেজন্য স্যার আমার সহযোগীতা চান। আমি কলেজের প্রিন্সিপাল স্যারের রুমে থাকা অবস্থায় শুনতে পাই বাহিরে জোরে হাল্লা চিৎকার হচ্ছে।

এসময় কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি সাইদুর রহমান সুজাত আমার সাথে প্রিন্সিপাল স্যারের রুমে বসা ছিল। ঘটনা জানতে আমাকে বসিয়ে রেখে সুজাত নিচে যায়। সে যাবার পরও দেখি পরিস্থিতি শান্ত হচ্ছে না। এর পর আমি নিচে গিয়ে দেখি সুজাতের হাতে একটা লম্বা ধারালো ছুরি, আরেক হাতে একটা বেঞ্চ’র পা’। তখন সে আমার অনুসারী ছাত্রলীগ কর্মী ইমনসহ আরো ২/৩জন ছাত্রকে মারধর করছে। অপর পাশে দেখি শেখ মো. ইফতি খাঁন রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আছে। এসময় সুজন, সম্রাট, জয়, নেওয়াজ, তানভির, সাগরসহ ৪০/৫০ জন মিলে ইমন, ছাদিক, মেহরাবকে মারপিট করে। এসময় আমি গুরুত্বর আহত ইফতি, ছাদিক, মেহরাব ও ইমনকে উদ্ধার করে দ্রুত শ্রীমঙ্গল হাসপাতালে প্রেরণ করি। এদের মধ্যে ইফতির অবস্থার অবনতি হলে মৌলভীবাজার সরকারী হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

এ ঘটনার পরপরই কলেজ রোডের রেবতী চা স্টলের সামনে আমার কর্মীরা আমার জন্য অপেক্ষারত ছিল, ঠিক সে সময় উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজু দেব রিটন, কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি সাইদুর রহমান সুজাত দা, রামদা’, ছুরি, রড, হকিষ্টিক পাইপসহ ৩০/৪০জন বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে পাল্টা হামলা করে’।

জানতে চাইলে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজু দেব রিটন মুঠোফোনে বলেন, ‘ কলেজের প্রথম মারামারির ঘটনায় ছাত্রলীগের কেউ জড়িত নয়।

কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতির আনীত অভিযোগ প্রসঙ্গে রাজু দেব রিটন বলেন, ‘ঘটনাস্থলের লোকজন বা পুলিশই বলতে পারবে আমার সাথে থাকা কোন নেতাকর্মীর হাতে সাধারণ দেশীয় অস্ত্র তো দূরে থাক যদি কোন একটি লাঠি থাকার প্রমাণ দিতে পারে তাহলে প্রয়োজনে আমি ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগ করব। আমি বিষয়টি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেনকে অবহিত করেছি। আমি এর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।

শ্রীমঙ্গল থানা ওসি কে এম নজরুল বলেন, বহিরাগতরা কলেজে প্রবেশ করে দু’পক্ষের মারামারির ঘটনা ঘটে। সন্দেহজনক ২ জনকে আটক করা হয়েছে ছাত্র না হলে এদেরকে কোর্টে চালান দেয়া হবে।

স্থানীয় সাংসদ ও জাতীয় সংসদের সাবেক চীফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ বলেন, কোন অছাত্র কলেজে প্রবেশ করার সুযোগ নেই। শিক্ষার পরিবেশ যাতে বিনষ্ট না হয় সে ব্যাপারে শেখ হাসিনার পরিষ্কার নির্দেশনা রয়েছে। সেটা শ্রীমঙ্গলে দীর্ঘদিন ধরে বজায় আছে। আগামী দিনেও থাকবে। যাতে কেউ অবৈধ সুযোগ না নিতে পারে সেজন্য পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *