রাত ১২:২৫ | ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২৩শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ব্রেকিং নিউজ

শেরপুরে জমে উঠেছে শিশুদের ঈদ বাজার

জাহিদুল হক মনির, শেরপুরঃ ঈদ বেশি আনন্দ দেয় ছোটদের। শিশুদের সব খুশি যেন ঈদের পোশাক ঘিরে। তাই ঈদের কেনাকাটায় তাদের আবদারেরও শেষ নেই। ঈদের পোশাক ঘিরে শিশুদের থাকে নানা জল্পনাকল্পনা। নিজেদের পোশাক নিয়ে উদাসীন থাকলেও অভিভাবকরা সবচেয়ে সুন্দর পোশাকটি কিনে দিতে চান সন্তানকে। ঈদের অনেক আগেই শিশুদের কেনাকাটা সেরে ফেলতে চান অভিভাবকরা। তাই ঈদকে সামনে রেখে এরই মধ্যে জমে উঠেছে শিশুদের ঈদ বাজার।

শেরপুর শহরের নিউমার্কেট, গোয়ালপট্টি, তেরাবাজার ও শহীদ বুলবুল সড়কের ফ্যাশন হাউসগুলোতে এমন চিত্র দেখা গেছে। এসব মার্কেটের দোকানগুলোতে বড়দের পাশাপাশি শিশুদের নানা রঙ-বেরঙের পোশাকের পসরা সাজিয়েছে দোকানিরা। ফুটপাত থেকে শুরু করে অভিজাত শপিংমলগুলোতে শোভা পাচ্ছে ছোট্ট শিশুদের রঙ-বেরঙের পোশাক। সাধ ও সাধ্যের মধ্যে ক্রেতারা ক্রয় করছেন এসব পোশাক।

বিক্রেতারা জানান, এবার মেয়ে শিশুদের জন্য ঘের দেওয়া লম্বা কামিজ যেমন চলছে, তেমনি ছেলে শিশুদের পাঞ্জাবিতে লাইন কাটের ব্যবহার বেশি। শিশুরা সারাদিন জমকালো পোশাক পরে থাকতে পারে না। সেজন্য সুতি, ডেনিম বা জিনসের প্যান্ট, খাটো হাতার শার্ট ও ফতুয়া দেওয়া যেতে পারে। এবার মেয়ে শিশুদের জন্য পার্টি ফ্রক, ঘাগড়া চোলি ও লেগিংসের চাহিদা বেশি দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি সালোয়ার-কামিজও পরতে পারে এবারের ঈদে। কাতান, টিস্যু, মসলিন ও সার্টিনের ব্যবহার ভালো লাগবে পার্টি পোশাকে। এছাড়া সুতির কাপড় তো রয়েছেই।

আরেক বিক্রেতা সুমন বলেন, বরাবরের মত এ বছরও শেরপুরের মার্কেটগুলোতে ভারতীয় পোশাকের চাহিদা বেশি। নানান সিরিয়াল আর হিন্দি সিনেমার নাম অনুসারে বেশ জনপ্রিয় ভারতীয় পোশাকগুলো। ভাল নকশা না থাকার কারণে দেশি পোশাকের চাহিদা খুবই কম।

পোশাকের নকশায় প্রাধান্য পাচ্ছে কারচুপি, এমব্রয়ডারিসহ হাতের কাজ। এছাড়া রয়েছে সিল্ক, মসলিন কাপড়ের পার্টি পোশাক। বাচ্চাদের জন্য বরাবরের মতো এবারও বেছে নেওয়া হয়েছে উজ্জ্বল রং। আড়ং, রঙ, নিত্য উপহার, মেঘ, বরণ, যাত্রাসহ ছোট-বড় সব ফ্যাশন হাউজ ঈদকে সামনে রেখে তাদের নিজেদের ডিজাইন মেলে ধরেছে শিশুদের রঙ-বেরঙের পোশাক দিয়ে।

ঈদ সামনে রেখে বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজগুলো মেয়ে শিশুদের জন্য এনেছে হাতের জমকালো কাজ করা সালোয়ার কামিজ, ঘাঘড়া চোলি। সালোয়ার ও প্যান্টের কাজে নকশা এবং কাটে দেখা গেছে বৈচিত্র্য। ছেলে শিশুদের পাঞ্জাবিতে কাপড় হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে এন্ডি, সিল্ক, মসলিন ও খাদি।

কলেজ পড়ুয়া আঞ্জুমান আরা বলেন, ঈদের পোশাকে এক ধরনের প্রতিযোগিতা থাকে। যাতে দামের চেয়েও আকৃষ্ট করার বিষয়টি প্রাধান্য পায়। প্রতিযোগিতার এ স্থানে দেশীয় পোশাক স্থান পাচ্ছে কম।

ছেলে শিশুদের জন্য প্রচলিত চেক ডিজাইনের টি-শার্টের পাশাপাশি বিভিন্ন রং ডিজাইনের টি-শার্ট বিক্রি হচ্ছে শোরুমগুলোতে। গরমে শিশুদের প্রশান্তির কথা ভেবে গেঞ্জি কাপড়ের টপ, টি-শার্ট, প্যান্ট এনেছে বিভিন্ন ব্যান্ড। মেয়ে শিশুদের জন্য সুতির টু-পিস, থ্রি-পিস, ফ্রকের বড় সংগ্রহ এনেছে ফ্যাশন হাউসগুলো। ছোট শিশুদের পছন্দসই জামা কিনতে চাইলে আপনার বাজেট হতে হবে ৫’শ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। সাধারণ মার্কেটগুলোতে মোটামুটি অল্প দামেই পেয়ে যাবেন শিশুদের ঈদের জামা। কিন্তু একটু অভিজাত বিপণিতে গিয়ে ভিন্ন ধরনের কিছু খুঁজতে চাইলে বেশ ভালোই বাজেট প্রয়োজন হবে।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *