সন্ধ্যা ৭:৩৮ | ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২১শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ব্রেকিং নিউজ

লালমনিরহাটে তিস্তার পানি বিপদসীমার নিচে

নুরনবী সরকার, লালমনিরহাটঃ ভারি বর্ষন ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার উপরে উঠলেও এখন নিচে নেমে গেছে।

শনিবার (১ জুলাই) রাত সাড়ে ৮ টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজে পানি প্রবাহ রেকর্ড ধরা হয়েছিল ৫২.৩৮ সেঃ মিঃ। যা স্বাভাবিকের চেয়ে ২ সেঃ মিঃ নিচে। এর আগে শুক্রবার (৩০ জুন) রাত থেকে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়ে শনিবার দুপুরে বিপদসীমার ১১ সেঃ মিঃ অতিক্রম করেছিল। তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তার তীরবর্তী নি¤œাঞ্চল গুলো প্লাবিত হয়েছিল। এতে প্রায় ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পরে। ধীরে ধীরে পানি কমে যাওয়ায় এখন বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হচ্ছে।

তিস্তা ব্যারাজ সেচ প্রকল্প সতর্কীকরন কেন্দ্র জানায়, ভারত গজল ডোবা ব্যারেজের অধিকাংশ গেট খুলে দেয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। তিস্তা ব্যারাজের অধিকাংশ গেট খুলে দিয়ে পানির গতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

সারাদিনের পানিতে বহুল আলোচিত বিলুপ্ত ছিটমহল আঙ্গোরপোতা-দহগ্রাম, হাতীবান্ধার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সিঙ্গিমারী, সির্ন্দুনা, পাটিকাপাড়া ও ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের চর এলাকার ১০ গ্রামের ৫ হাজার পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। কয়েক হাজার একর আমন ধানের বীজ তলাসহ অনেক ফসলী ক্ষেত তিস্তার পানিতে ডুবে গেছে।

হাতীবান্ধা উপজেলার সিঙ্গিমারী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন দুলু জানান, ইতোমধ্যে চর এলাকা গুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে গেছে। দক্ষিন ধুবনী গ্রামে বাধেঁর ২ টি স্থানে ভেঙ্গে গেছে। তার অভিযোগ, বাঁধটি মেরামতের জন্য উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে আবেদন করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। যে কারণেই বাঁধটি ভেঙ্গে গেছে ফলে ওই এলাকায় বেশ কিছু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এখন পানি কমে যাওয়ায় ধীরে ধীরে বন্যার পানিও নেমে যাচ্ছে।

হাতীবান্ধা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফেরদৌস আহম্মেদ জানান, ইতোমধ্যে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে পানিবন্দি পরিবার গুলোর খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। এাণের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড দোয়ানী’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তফিজুর রহমান জানান, তিস্তার পানি প্রবাহ শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমা অতিক্রম করলেও শনিবার বিকাল থেকে তা কমতে শুরু করে। রাত সাড়ে ৮ টায় বিপদসীমার ২ সেঃ মিঃ নিচে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয়।

 

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *