রাত ১২:৩১ | ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২৩শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ব্রেকিং নিউজ

রানীশংকৈলে চিকিৎসারত এক বৃদ্বের প্রধানমন্ত্রীর নিকট আকুতি হয় বিচার করে দেন নইলে বিষ দেন

রানীশংকৈল প্রতিনিধিঃ-আমি কোথাও কোন বিচার পাচ্ছি না,যার কাছে যাচ্ছি সেই আমার সরলতার সুযোগ নিচ্ছে। অবশেষে ঠাকুরগাও জজ র্কোটে মামলা করেছি বিচার পাবার আশায় সে মামলা করেই যেন আমি আরেক বিপদে পড়েছি। বর্তমানে আমার বয়স ৭৫ বছর এখন আমার যাবার পালা সে-সময়েও নিজের পুত্র সন্তানদের অত্যাচার আর সহ্য করতে পারছি না তাই আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট জোর মিনতি করে আপনাদের মাধ্যমে বলছি হয় বিচার করে দেন নইলে বিষ দেন খেয়ে মরি। এ কথা গুলো বলছিলেন ঠাকুরগায়ের রানীশংকৈল হাসপাতালের তিন তলার ২২ নং কেবিনে চিকিৎসারত মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়া বৃদ্ব বয়স্ক ইসমাঈল হোসেন। তার বাড়ি উপজেলার আমজুয়ান গ্রামে। জানা যায়, গত ২৮ জুন সন্ধ্যায় ইসমাইল হোসেন বন্দর বাজার থেকে পাইলট ¯কুল ব্রিজ রাস্তা দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন তখন হঠাৎ করে অজ্ঞাত কিছু উর্ত্তি বয়সের ছেলেরা তাকে রাস্তার পাশেই একটি মাকাই(ভুট্ট্রা) ক্ষেতে নিয়ে গিয়ে দড়ি দিয়ে বেধে হত্যার উদ্যাশে ডান কানে ছুরির আঘাত করে। এবং বেদড়ক মারপিট করে বলে ব্যাটা কোর্টে মামলা করিস তোকে আজ মামলার সাধ মিটিয়ে দিবো বলে আর তাকে মারপিট করে সে-সময় ইসমাইল হোসেন চিৎকার দিলে রাস্তার পথচারীরা ঐ ভুট্ট্রা ক্ষেতের দিকে এগিয়ে যেতে ধরলে লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় অজ্ঞাত ঐ ব্যক্তিরা। এবং পথচারীরা গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্বার করে হাসপাতালে ভর্তি করে এতে প্রাণে বেচে যান ইসমাঈল হোসেন। পরবর্তীতে থানায় অভিযোগ করলেও কোন ব্যবস্থা নেই নি কতৃপক্ষ উল্টো বলছেন ঘটনাটি সন্দীহান তার বড় ছেলের বিরুদ্বে অভিযোগ দিয়েছে তদন্ত অব্যহত। ইসমাইল হোসেনের পারিবারিকভাবে খোজ নিয়ে জানা যায়, ইসমাঈল হোসেনর ২টি স্ত্রী ১ম স্ত্রী মারা গেছেন তার সন্তানরা সবাই বিয়ে করে আপন আপন সংসার করছেন। ইসমাঈল হোসেন এখন ২য় স্ত্রী ও ৩ কন্যা নিয়ে বসবাস করছেন। কিন্তু বিপত্তি হলো ১ম স্ত্রীর ৩ কন্যা ও ৪পুত্র সন্তানদের নিয়ে। ৪ পুত্র’র মধ্যে ৩ সন্তান খায়রুল, সাইরুল, জাহেরুল। বৃদ্ব বয়স্ক ১ম স্ত্রীর সন্তানদের পর্যাপ্ত পরিমাণ জায়গা জমি দিয়েছেন। তারপরও ইসমাঈল হোসেনের জীবিকা নির্বাহের বাকী জমিগুলো কেড়ে নিতে চান যেকোন উপায়ে । এ কারনে ইসমাঈল হোসেন তার ১ম স্ত্রীর নামে জমি দস্তখত করে দিতে চাইলেও বার বার বাধা প্রদান করেন ৩ ছেলে। সর্বশেষ দস্তখত হলেও সাব-রেজিষ্টার অফিসের অসাধু লোকদের দিয়ে অর্থের বিনিময়ে করেছেন দলিল জালিয়াতি। ইসমাঈলের অগচরে ভলিউমে নাম সংযোজন হয়েছে ছেলে খায়রুলের। এ নিয়ে বৃদ্ব ইসমাঈল কোথাও কোন বিচার না পেয়ে মামলাও করেছেন ঠাকুরগাও কোর্টে । মামলা করার কারনে ছেলেরা তাকে হুমকি দেন বিভিন্নভাবে তখন তিনি আবারও কোর্টের সরনাপন্ন হয়ে হুমকি দেওয়ার জন্য আরেকটি মামলা করেন এতেও তিনি নিস্তার পাননি। এ বিপত্তি চলাকালে যুবতী কন্যাকে ধর্ষন করেন একই গ্রামের সজল। সেটিরও তিনি সমাজে বিচার না পেয়ে মামলা করেন কোর্টে। তবে ধর্ষক ধরা পড়েনি কারণ তিনি প্রভাবশালী ঘরের সন্তান। সর্বমোট তিনি ২টি পক্ষের ৪টি মামলার বাদী। স্থানীয়রা ধারণা করছেন এই মামলাগুলো বানচাল করার কারনেই তাকে এই হত্যার চেষ্টা করা হয়। ইসমাঈল হোসেন এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এর সঠিক বিচার চেয়েছেন না হলে তার বিষ খেয়ে আত্বহত্যা করা ছাড়া কোন উপায় থাকবে না বলে তিনি আক্ষেপ করেন। এ বিষয়ে ওসি আব্দুল মান্নান বলেন তার আপন বড় ছেলের বিরুদ্বে অভিযোগ পেয়েছি ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে ঘটনা সন্দিহান এটা তাদের পারিবারিক বিষয়, ঘটনার তদন্ত চলছে । আপনার থানা এলাকায় এমন ঘটনা আপনি কিভাবে দেখছেন জবাবে তিনি বলেন,আপনি কোথায় বুঝতেছেন না বললাম তো ঘটনার কোন প্রত্যক্ষদশী নাই তাই তদন্ত চলছে।

 

 

 

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *