সকাল ১১:৩৬ | ৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২২শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ব্রেকিং নিউজ

যৌথ প্রযোজনায় অনিয়মের লিখিত তালিকা তথ্য মন্ত্রণালয়ে

বিনোদন ডেস্ক:  যৌথ প্রযোজনার নামে বর্তমানে যৌথ প্রতারণার ছবি নির্মিত হচ্ছে। যৌথ প্রযোজনার প্রচলিত নিয়মরীতি মানা হচ্ছে না সাম্প্রতিক যৌথভাবে নির্মিত ছবিগুলোতে। এমনটাই দাবি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতিসহ চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ১৪ সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত চলচ্চিত্র ঐক্যজোটের।

আসছে ঈদে যৌথ প্রযোজনার নিয়ম ভেঙে ‘নবাব’ ও ‘বস টু’ নির্মিত হয়েছে দাবি করে এই দুটি ছবির সেন্সর না দেয়ার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে চলচ্চিত্র পরিবার। গত রোববার (১৮ জুন) চলচ্চিত্র ঐক্যজোটের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা এফডিসিতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। ওইদিন তারা ইস্কাটনে অবস্থিত চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের কার্যালয় ঘেরাও করলে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ঐক্যজোটের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন।

সেদিন তিনি যৌথ প্রযোজনায় বর্তমানে কী কী নিয়ম ভাঙা হচ্ছে তার একটি লিখিত তালিকা চেয়েছিলেন আন্দোলনকারীদের কাছে। সেই প্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার (১৯ জুন) একটি লিখিত তালিকা তথ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান বলেন, ‘মন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে চলচ্চিত্র অভিনেতা ফারুক ভাইয়ের নেতৃত্বে রোববার আমাদের বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে তিনি যৌথ প্রযোজনায় কোন কোন নীতিমালা মানা হচ্ছে না তার একটা লিখিত তালিকা চেয়েছেন। সেই মর্মে সোমবার আমরা তালিকাটি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। সেখানে ১৪টি সংগঠনের নেতাদের স্বাক্ষর রয়েছে।’

জায়েদ আরও বলেন, ‘এই তালিকা অনুযায়ী সাম্প্রতিক সময়ে নির্মিত যৌথ প্রযোজনার সব চলচ্চিত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। তারপর সেন্সর ছাড়পত্র বা মুক্তির অনুমতি দেয়া হবে।’

শিল্পী সমিতির এই নেতা বলেন, ‘যৌথ প্রযোজনা অনেক পুরনো একটি সিস্টেম। অনেক জনপ্রিয় ছবি পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ভারতসহ আরও বেশকিছু দেশের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যৌথভাবে নির্মিত হয়েছে। কিন্তু সেগুলো ছিল যথাযথ নীতিমালা অনুযায়ী এবং তাদের পরিচয় ছিল যৌথ প্রযোজনার ছবি হিসেবেই। কিন্তু আজকাল দেখা যাচ্ছে এসব নিয়মের তোয়াক্কাই করা হচ্ছে না। মুখ্য শিল্পী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে চরম একপেশে অবস্থান বাংলাদেশের। টেকনিশিয়ান, শুটিং লোকেশনেও আমাদের ইন্ডাস্ট্রিকে ঠকানো হচ্ছে। আবার ওইসব ছবিকে এপারে যৌথ প্রযোজনার বলা হলেও কলকাতায় সেগুলো ওখানকার লোকাল ছবি হিসেবেই প্রচার হচ্ছে। এত বড় অনিয়ম করে কিছু লোক নিজের ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধার করছেন, পুরো ইন্ডাস্ট্রিকে ঠকিয়ে। এটা তো অন্যায়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বারবার বলেও তাদের সতর্ক করতে পারিনি। বরং আমাদের নামে তারা নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমাদের তারা প্রতিপক্ষ ভেবে নোংরা বিতর্কে জড়াচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে কঠিন আন্দোলনে নামতে হলো। আশা করছি, সরকার তথা চলচ্চিত্রের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এই অনিয়ম থেকে আমাদের রক্ষা করবেন।’

জায়েদ খান বলেন, ‘আমি ১৪ সংগঠনের হয়ে স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমাদের আপত্তি বা আন্দোলন যৌথ প্রযোজনার বিপক্ষে নয়। আমরা কেবল নীতিমালা মেনে যৌথ প্রযোজনার পক্ষে। যাতে করে আমাদের দেশীয় চলচ্চিত্রের শিল্পী-কলাকুশলীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হন। যে কেউ চাইলে যৌথ প্রযোজনায় ছবি নির্মাণ করতে পারেন। এই স্বাধীনতা রাষ্ট কর্তৃক দেয়া আছে সব প্রযোজক ও পরিচালককে।’

প্রসঙ্গত, আসছে ঈদে তিনটি যৌথ প্রযোজনার ছবি মুক্তির অপেক্ষায় আছে। তার মধ্যে কলকাতার এসকে মুভিজের সঙ্গে জাজ মাল্টিমিডিয়া যৌথভাবে প্রযোজনা করেছে ‘নবাব’। এতে শাকিব-শুভশ্রী প্রথমবারের মতো জুটি বেঁধেছেন। আর জাজের সঙ্গে ওপার বাংলার অভিনেতা জিতের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগের ছবি ‘বস টু’। সেখানে জিতের নায়িকা হিসেবে আছেন কলকাতার শুভশ্রী ও ঢাকার নুসরাত ফারিয়া।

পাশাপাশি কলকাতার শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মসের সঙ্গে ঢাকার একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে নির্মাণ করেছে ‘রংবাজ’ নামের একটি ছবি। এতে শাকিব খানের নায়িকা হয়ে বুবলী প্রথমবারের মতো যৌথ প্রযোজনার ছবিতে নাম লেখালেন। আগের দুইটি ছবি নিয়ে যৌথ প্রযোজনার নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ থাকলেও ‘রংবাজ’ নিয়ে কোনো আপত্তি শোনা যায়নি চলচ্চিত্র ঐক্যজোটের।

এদিকে মুক্তির নিশ্চয়তা না থাকলেও ‘নবাব’ ১২০টি এবং ‘বস টু’ ১০০টি হলের বুকিং এরইমধ্যে হয়ে গেছে। অথচ মাস খানেক আগেই সেন্সর ছাড়পত্র পাওয়া ঢাকার একক প্রযোজনার ‘রাজনীতি’ ছবিটি নিয়ে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে হল বুকিং এজেন্ট ও হল মালিকদের। এই বিষয়টি বেশ আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বুলবুল বিশ্বাস অভিনীত এই ছবিতে জুটি হয়ে এক বছর পর দেখা যাবে শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসকে।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *