রাত ১১:০৬ | ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২৩শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ব্রেকিং নিউজ

মায়ের সঙ্গে কথা বলতে বলতেই অঙ্গার গ্লোরিয়া

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক :  মায়ের সঙ্গে ফোনে শেষবারের মতো কথা বলছিলেন গ্লোরিয়া ট্রেভিসান। জানাচ্ছিলেন ভবনের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কথা। এসময় ক্ষমাও চেয়ে নিয়েছিলেন গ্লোরিয়া। বলেছিলেন, ‘আমি স্বর্গে চলে যাচ্ছি। তোমাকে সেখানে আনতে আমি সাহায্য করব।’ এরপর থেমে যায় গ্লোরিয়ার কণ্ঠস্বর। মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।

এমনই মর্মান্তিক বর্ণনা করেছেন গ্লোরিয়ার মায়ের আইনজীবী। যুক্তরাজ্যের পশ্চিম লন্ডনের গ্রেনফেল টাওয়ারে এই পর্যন্ত ৩০ জন নিহতের কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৭০ জন। নিহতের সংখ্যা যে একশ’ ছাড়াবে সে ইঙ্গিত আগেই দিয়েছে ভবনের তল্লাশিতে থাকা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। হাসপাতালেও মৃত্যুর সঙ্গেও লড়ছেন অনেকে। যাদের কারও কারও অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।

আইনজীবী জানান, ট্রেভিসানের বয়স ছিল মাত্র ২৬ বছর। ইতালিতে তার পরিবারের বাস। কাজের খোঁজে মাত্র ৩ মাস আগে লন্ডনে পাড়ি জমান তিনি। স্থাপত্য নিয়ে কাজ করতেন ট্রেভিসান। আর্থিক কারণে তিনি একাই লন্ডনে থাকতেন। ফ্ল্যাটে ওঠার পর গত এপ্রিলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেটির সুন্দর একটি ছবিও প্রকাশ তিনি।

ট্রেভিসান অগ্নিকাণ্ডের সময় মা ম্যানুয়েলা এবং বাবা লরিসের সঙ্গে শেষবারের মতো কথা বলেছিলেন। যার কিছু অংশ মোবাইলে রেকর্ড করে রাখেন লরিস। জানতেন এই রেকর্ডটুকুই আদরের মেয়ে’র স্মৃতিকে ধরে রাখবে।

যদিও এই রেকর্ড প্রকাশ করেননি তিনি। আদালতের অনুমতি ছাড়া ট্রেভিসানের বাবা তা পারবেন না। ভবনের আগুনের কারণ ও হতাহতের ঘটনা নিয়ে তদন্ত কমিটি কাজ করছে। সব আলামতের মতো এটিও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবেই ধরা হচ্ছে বলে জানান সেই আইনজীবী।

গ্লোরিয়ার সঙ্গে তার বন্ধু মার্কো গোট্টারডি’ও নিখোঁজ রয়েছেন। সেও টেলিফোনে তার স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন বলে জানিয়েছে ইতালির বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম। এরপর দু’জনের কারও সঙ্গেই আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের নাগরিকদের নিখোঁজের খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হতাহত এবং নিখোঁজদের ব্যাপারে তারা লন্ডনের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করছে।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *