রাত ৩:১৫ | ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২১শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ব্রেকিং নিউজ

বেপজা আইনে সংশোধন আসছে

স্টাফ রিপোর্টার :  বাংলাদেশের শ্রম পরিস্থিতি ও রফতানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মন্তব্যের জবাব দিয়েছে সরকার। এতে রফতানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল (বেপজা) আইন ও বাংলাদেশ শ্রম আইন আগামী দুই বছরের মধ্যে সংশোধন করার কথা বলা হয়েছে।
মূলত বেপজা’তে ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার না থাকা নিয়ে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার পর্যবেক্ষণের সূত্র ধরে এই বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশের প্রচলিত শ্রম আইন অনুযায়ী অন্য সব প্রতিষ্ঠানে ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার থাকলেও এখনও রফতানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল বেপজায় এই সুযোগ নেই। এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার নির্ভর করছে অনেটাই এ সমস্যার সুরাহার ওপর। এ সমস্যার সমধান না হলে সাময়িকভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে শুল্কমুক্ত সুবিধা হারাতে পারে বাংলাদেশ।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে শ্রম সচিব মিখাইল শিপার জেনেভা থেকে ফোনে  জানিয়েছেন, বাংলাদেশ বিষয়ে আইএলও তাদের উদ্বেগ নিয়ে যে বিশেষ অনুচ্ছেদ সংযুক্ত করেছে তার জবাব আমরা শনিবার দিয়েছি।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার বিশেষ অনুচ্ছেদটিতে বাংলাদেশের শ্রম পরিস্থিতি নিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক নিয়ম কানুন মেনে রফতানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল ( বেপজা) আইন ও বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধন করাসহ জাতিসংঘের শ্রম কনভেনশন মেনে ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা করা এবং তাদের স্বাধীনভাবে কার্যক্রম সম্পাদনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
মিখাইল শিপার আরও বলেন, আগামীকাল মঙ্গলবার (১৩ জুন) আন্তর্জাতিক শ্রম কাউন্সিলের বার্ষিক সম্মেলনে বাংলাদেশ বিষয়ে আলোচনা হবে। আমরা আশা করছি, তাদের উদ্বেগ নিয়ে যে বিশেষ অনুচ্ছেদ সংযুক্ত করা হয়েছে সেটির বিষয়ে তারা ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করবেন এবং আমাদের লক্ষ্য থাকবে কোনও ধরনের নেতিবাচক অবস্থা যাতে সৃষ্টি না হয়।

প্রসঙ্গত: আন্তর্জাতিক শ্রম কাউন্সিলের বার্ষিক সম্মেলন গত পাঁচ জুন শুরু হয়েছে এবং তা আগামী ১৬ জুন পর্যন্ত চলবে। এর আগে প্রতিবার শ্রম প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিলেও এবারের সম্মেলনের গুরুত্ব অনুধাবন করে আইনমন্ত্রীকে অ্যাডভোকেট আনিসুল হককে প্রতিনিধিদলের নেতা নির্বাচিত করা হয়েছে।

মিখাইল শিপার বলেন, ‘বাংলাদেশ তার জবাবে উল্লেখ করেছে, রফতানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল ( বেপজা) আইন ও বাংলাদেশ শ্রম আইন একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংশোধন করা হবে।’

এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ আমরা বলেছি এ বছরের মধ্যে আমরা এর খসড়া চূড়ান্ত করবো এবং আগামী বছরের মধ্যে আইন দুটি সংশোধন করবো।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষাপটে এটি বাস্তবসম্মত এবং আশা করি তারা আমাদের সীমাবদ্ধতা অনুধাবন করে বিষয়টি মেনে নেবে।’

রফতানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল আইন ও বাংলাদেশ শ্রম আইনের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য হচ্ছে বেপজা অঞ্চলে ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার নেই কিন্তু বাংলাদেশ শ্রম আইনে এ অধিকার দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন সম্প্রতি এক চিঠিতে বাংলাদেশের শ্রম অবস্থা নিয়ে তাদের স্পষ্ট অসন্তোষের কথা জানিয়েছে।

গত ৩১ মে লেখা এক চিঠিতে তারা বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এবং মৌলিক মানবাধিকার ও শ্রম অধিকার নিশ্চিত করা না হলে তারা তাদের শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধাটি পর্যালোচনা করবে।

ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, কোনও ইতিবাচক পরিবর্তন না হলে ইইউ তাদের নজরদারি বাড়াবে এবং বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষ মিশন ঢাকায় পাঠাবে। এ ধরনের বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন হলে একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে এবং এর ফলে সাময়িকভাবে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রত্যাহার করা হতে পারে।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *