রাত ১০:৪৬ | ৬ই মাঘ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ১৯শে জানুয়ারি, ২০১৮ ইং
ব্রেকিং নিউজ

বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা আর যানজটে নাকাল নগরবাসী

স্টাফ রিপোর্টার :  বৃষ্টিতে রাজধানীর জনজীবনে দেখা দিয়েছে নাভিশ্বাস। বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা আর যানজটে হাবুডুবু খাচ্ছে নগরবাসী। সোমবার (১২ জুন) গভীর রাত থেকে কখনও গুঁড়িগুঁড়ি, কখনও ভারী বৃষ্টি, আবার কখনও দমকা হাওয়া বইছে। বর্ষার এই রূপ প্রকৃতিপ্রেমীরা উপভোগ করলেও নগরবাসীর জন্য যেন এটা যন্ত্রণা! খোঁড়াখুঁড়ির নগরীতে বৃষ্টি দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে তাদের।

সোমবার গভীর রাত থেকেই রাজধানীতে বৃষ্টি হচ্ছে। এতে তীব্র গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি মিললেও বিভিন্ন এলাকায় সড়কে পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এ কারণে বেড়েছে ভোগান্তি। রাজধানী জুড়ে এমন খোঁড়াখুঁড়িতে নগরবাসীর এই দুর্ভোগ অন্যান্য সময়ের তুলনায় বেড়ে গেছে কয়েক গুণ।

রাজধানী ঢাকায় সামান্য বৃষ্টি হলেই তীব্র জলাবদ্ধতার কারণে দেখা দেয় দুর্ভোগ। কোথাও কাদামাটি, আবার কোথাও হাঁটুপানি। চিরচেনা ঢাকা তখন রূপ নেয় এক ভিন্ন নগরীতে। লেগে যায় ভয়াবহ যানজট।

সোমবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত রাজধানীর রাজারবাগ, কমলাপুর, আরামবাগ, শান্তিনগর, মালিবাগ, মৌচাক ও মগবাজার এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতা দেখা যায়। এসব সড়কে যানজটের চিত্র ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও একটু সামনে যাওয়া যায়নি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীদের পাশাপাশি চালকরাও।

সুপ্রভাত পরিবহনের চালক নোমান সিদ্দিক রাজু বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরেই দেখে আসছি শুধু উন্নয়ন আর উন্নয়ন। তবুও শান্তিনগর-মালিবাগ-মৌচাক-মগবাজার ও মালিবাগ রেলগেট সড়কের ভোগান্তি কমে না। এত উন্নয়ন হয় যে তাতে গাড়ি চালানো যায় না। বাধ্য হয়েই খিলগাঁও দিয়ে যাতায়াত করি। যাত্রীরাও অনেক সময় আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত হন।’

একই অবস্থা মিরপুর, রোকেয়া সরণি, বাড্ডা, পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোড, বাসাবো, মাদারটেক, যাত্রাবাড়ী, ধনিয়া, গেণ্ডারিয়া, সূত্রাপুর, ধানমণ্ডি, মোহাম্মদপুর, নিউমার্কেট ও রায়েরবাজারসহ নগরীর অধিকাংশ এলাকায়। এসব স্থানে জমে গেছে পানি। সড়কগুলোতে সিটি করপোরেশন ও ঢাকা ওয়াসার ড্রেনেজ লাইন নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সেবা সংস্থার সংযোগ লাইন স্থাপনের জন্য সড়কের বিশাল অংশের মাটি খুঁড়ে রাখা হয়েছে গর্ত করে। বৃষ্টির সঙ্গে পানি জমে গর্তগুলো ভরাট হয়ে সমতল স্থানের মতো পরিণত হয়েছে। এ কারণে সড়ক দিয়ে চলাচলে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে যানবাহনগুলো।

টানা বৃষ্টিতে ভোগান্তির শিকার হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। সালাহউদ্দিন সুমন নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী বিদ্রুপ করে লিখেছেন, ‘বিকেল সাড়ে ৩টায় রওনা দিয়েছি নয়াপল্টন থেকে। দেড় ঘণ্টা পর মিন্টু রোডের মুখে। চরম বিরক্ত হচ্ছি, কিন্তু বিরক্তি প্রকাশ না করাই সুনাগরিকের লক্ষ্য!’

নাসিমা খন্দকার লিখেছেন, ‘রাজশাহীর ট্রেন ছাড়ার কথা ২টা ৩০ মিনিটে। তাই আম্মাকে নিয়ে ১২টা ৩০ মিনিটে ধানমন্ডি থেকে রওনা দিলাম কমলাপুরের উদ্দেশে। ভিআইপি রোডে জ্যামে বসে থেকেই ট্রেন ট্র্যাক করে দেখলাম তিনি যথাসময়ে ছেড়ে চলে গেছেন! উবারের লোকেশন বদলে কল্যাণপুরে ৪টার বাস ধরতে ছুটলাম। ৪টা ১৫ মিনিটে গিয়ে শুনলাম বাস এখনও আসেনি। মানে সেটা তখনও চন্দ্রায়। ঢাকায় এসে ছাড়বে সন্ধ্যা ৬টায়! অগত্যা আম্মাকে নিয়ে বাসার পথে এখনও। হয়তো ইফতার এই বৃষ্টি-বন্যার রাস্তায় করতে হবে আজ!’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পানি জমে পুরান ঢাকার বিভিন্ন দোকানপাটে উঠে গেছে। অধিকাংশ এলাকায় দীর্ঘক্ষণ পানি জমে ছিল। এ কারণে ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটের ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ দোকান বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া সড়কের অবস্থা নাজুক হওয়ায় শান্তিনগর, মৌচাক ও মগবাজারের মার্কেটগুলোতে ঈদ মুহূর্তেও মিলছে না ক্রেতা। ঈদের আগমুহূর্তে নগরজুড়ে খোঁড়াখুঁড়ি ও বৃষ্টিতে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে। যে কারণে নগর ও দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

রাজধানীতে জলাবদ্ধতার জন্য ঢাকা ওয়াসাকেই দায়ী করছেন নগরবাসী। তারা বলছেন, ‘রাজধানী ঢাকায় শতাধিক খাল ছিল। কিন্তু এগুলো বেদখল হতে হতে এখন তা দাঁড়িয়েছে ৪৩টিতে। এর মধ্যেও ১৭টি খাল মোটামুটি সচল রয়েছে। বাকি খালগুলো বেদখল। ঢাকার আশপাশের নদীগুলোর অবস্থাও একই।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা খন্দকার মিল্লাতুল ইসলাম  বলেন, ‘বৃষ্টি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকাগুলোতে বাড়তি নজর রাখতে আমাদের পরিচ্ছন্নতা পরিদর্শকদের নির্দেশ দিয়েছি। তারা ড্রেন ও ম্যানহোলগুলো খুলে দিয়েছেন। এরই মধ্যে অধিকাংশ এলাকার পানি নেমে গেছে। শান্তিনগর এলাকায় আগামী মাসের মধ্যেই জলাবদ্ধতার পরিমাণ নেমে আসবে শুন্যে। অন্যান্য এলাকায় ড্রেন নির্মাণ হচ্ছে। আশা করি, নগরবাসী এর সুফল পাবে।’

 

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *