সন্ধ্যা ৭:৩০ | ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২১শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ব্রেকিং নিউজ

বিচার বিভাগ যে স্বাধীন এটা তারই বহিঃপ্রকাশ

স্টাফ রিপোর্টার :  বিচারপতি অপসারণ সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের দায়ের করা আপিল সর্বসম্মতিক্রমে খারিজ করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

সুপ্রিম কোর্টের এ রায় নিয়ে কোনো ধরনের ‘ক্ষুব্ধ’ প্রতিক্রিয়া না দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, বিচার বিভাগ যে স্বাধীন এটা তারই বহিঃপ্রকাশ। সুতরাং তারা যে রায় দিয়েছেন সে বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানোর প্রয়োজন নেই।

সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকের পর অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান বলে একাধিক মন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে এ রায়ে হতাশা প্রকাশ করলেও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনি কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, এ রায়ের মাধ্যমেই প্রমাণিত হয়েছে বিচার বিভাগ স্বাধীন। বিচার বিভাগ স্বাধীন বলেই এ রায় দিতে পেরেছে।

তার আগে বিচারপতি অপসারণ সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের দায়ের করা আপিল সর্বসম্মতিক্রমে খারিজ করে দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

আদালতের নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ১ ঘণ্টা ২৬ মিনিট পরে সোমবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সকাল ১০টা ২৭ মিনিটে এ রায় ঘোষণা করেন।

এদিকে এ রায়কে জনগণের বিজয় হিসেবে দেখছে বিএনপি। দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বর্তমান জাতীয় সংসদের যে ‘কম্পোজিশন’ তাতে উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণ করার ক্ষমতা জাতীয় সংসদের ওপর ন্যস্ত থাকলে সেখানে চরম দলীয় কর্তৃত্বের প্রতিফলন ঘটত এবং নিরপেক্ষতা ও ন্যায়বিচার ক্ষুণ্ন হতো। বিচারকদের নানাভাবে প্রভাবিত করতে তারা চাপ প্রয়োগের সুযোগ পেতেন। সুপ্রিম কোর্টের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দলের আদালতের ওপর অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপের নিশ্চিত সম্ভাবনা দূর হলো।

তিনি আরও বলেন, সরকার বিচার বিভাগকে করায়াত্ত করার যে দুরভিসন্ধি করেছিল, আজ সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তে সেই চক্রান্ত ব্যর্থ হলো। ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণায় সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *