রাত ১২:৫৬ | ৩রা পৌষ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ১৭ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
ব্রেকিং নিউজ

বাংলাদেশের শ্রম পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার আইএলও-তে আলোচনা

স্টাফ রিপোর্টার :  আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মূল কনভেনশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রফতানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা) আইন সংশোধনের প্রতিশ্রতি দিয়েছে বাংলাদেশ। গত শনিবার আন্তর্জাতিক শ্রম কাউন্সিলের বার্ষিক সম্মেলনের প্লেনারি সেশনে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে বাংলাদেশ এ প্রতিশ্রুতি দেয়।

বাংলাদেশ বলেছে, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী সব শ্রমিকের সংগঠন করার অধিকার নিশ্চিত করতে বেপজা আইনের কয়েকটি ধারা বিলুপ্ত করে শ্রম আইনের ১৩ নং ধারা বেপজা আইনে সংযুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে সরকার।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করে নভেম্বর মাসের মধ্যে বেপজা আইনের খসড়া তৈরি করা হবে বলে লিখিত বক্তব্যে জানিয়েছে বাংলাদেশ।

এর আগে সরকার রফতানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ আইন সংশোধন করে কেবিনেটের অনুমোদন সাপেক্ষে সংসদে জমা দেওয়ার পর অধিক পর্যালোচনার জন্য এটি প্রত্যাহার করে নেয়।

বেপজা আইন এবং বাংলাদেশ শ্রম আইনের ধারা একই ধরনের হবে কিনা? এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেনেভায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শামীম আহসান বলেন, গত শনিবার আমরা একটি বক্তব্য দিয়েছি এবং মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক শ্রম কাউন্সিলে বাংলাদেশ নিয়ে আলোচনায় আমরা বিস্তারিত বলবো।

তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না বাংলাদেশ তার বিস্তারিত বক্তব্য দিচ্ছে; ততক্ষণ এ বিষয়ে কোনও কিছু জানানো সম্ভব নয়।

রফতানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল আইন ও বাংলাদেশ শ্রম আইনের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য হচ্ছে রফতানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চলে ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার নেই। কিন্তু বাংলাদেশ শ্রম আইনে এ অধিকার দেওয়া হয়েছে। এর বদলে রফতানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চলে শ্রমিকরা ওয়ার্কার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোশিয়েশন গঠন করতে পারে; যা কালেক্টিভ বার্গেনিং এজেন্ট হিসাবে কাজ করে।

গতবছর আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা বাংলাদেশের শ্রম পরিস্থিতি নিয়ে একটি বিশেষ অনুচ্ছেদে মতামত প্রদান করে। এতে আন্তর্জাতিক নিয়ম কানুন মেনে রফতানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল আইন (বেপজা আইন) ও বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধন এবং জাতিসংঘের শ্রম কনভেনশন মেনে ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা এবং তাদের স্বাধীনভাবে কার্যক্রম সম্পাদনের ব্যবস্থা করার তাগিদ দেওয়া হয়।

এই বিশেষ অনুচ্ছেদে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন তার বাজারে বাংলাদেশের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধা সাময়িক প্রত্যাহারের বিষয়টি উল্লেখ করে গত মাসে বাংলাদেশকে একটি চিঠি দিয়েছে। ৩১ মে লেখা চিঠিতে তারা বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এবং মৌলিক মানবাধিকার ও শ্রম অধিকার নিশ্চিত করা না হলে তারা তাদের শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা পর্যালোচনা করবে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, কোনও ইতিবাচক পরিবর্তন না হলে ইইউ তাদের নজরদারি বাড়াবে এবং বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষ মিশন ঢাকায় পাঠাবে। এ ধরনের বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন হলে একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এর ফলে সাময়িকভাবে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রত্যাহার করা হতে পারে।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *