সকাল ১০:১৩ | ২৭শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ১১ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
ব্রেকিং নিউজ

বাংলাদেশি কূটনীতিক গ্রেফতার : যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে তলব

স্টাফ রিপোর্টার :  যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশি কূটনীতিক শাহেদুল ইসলামকে গ্রেফতারের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ব্যাখ্যা চেয়েছে বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত জোয়েল রিফম্যানকে ডেকে ওই ঘটনার তীব্র অসন্তোষ ও প্রতিবাদ জানান ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব মাহবুব উজ জামান। এ সময় জোয়েল রিফম্যানের সঙ্গে পলিটিক্যাল কাউন্সেলর আন্দ্রেয়া বি রডরিগেজ উপস্থিত ছিলেন।

ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব মাহবুব উজ জামান তাদের কাছে শাহেদুল ইসলামকে গ্রেফতারের ব্যাখ্যা চান। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন।

প্রসঙ্গত, সোমবার (১২ জুন) নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের ডেপুটি কনসাল জেনারেল মোহাম্মাদ শাহেদুল ইসলামকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে তিন বছরের বেশি সময় ধরে গ্রহকর্মীর ওপর সহিংস নির্যাতন ও হুমকি দিয়ে বিনা বেতনে কাজ করতে বাধ্য করানোর অভিযোগ আনা হয়।

শাহেদুল ইসলামকে কুইন্স ক্রিমিনাল কোর্টে রাখা হয়েছে। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (বাংলাদেশ সময়) রাতে শর্তসাপেক্ষে তিনি জামিনে মুক্তি পাবেন।

এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, ওই গৃহকর্মী প্রায় এক বছরে আগে শাহেদুল ইসলামের বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। এরপর হঠাৎ করে তাকে (শাহেদুল) গ্রেফতারের খবর পাওয়া গেলো। গোটা ব্যাপারটি আমাদের কাছে পরিষ্কার নয়। মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করে পরিষ্কারভাবে বিষয়টির উত্তর জানতে চাওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, পলাতক একজন ব্যক্তির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এভাবে একজন কূটনীতিককে কেন গ্রেফতার করা হয়েছে, সেটিও জানতে চাওয়া হয়েছে।

নিজ বাসায় এক বাংলাদেশি নাগরিককে তিন বছরের বেশি সময় ধরে সহিংস নির্যাতন ও হুমকি দিয়ে বিনা বেতনে কাজ করতে বাধ্য করার অভিযোগে বাংলাদেশি কূটনীতিক শাহেদুল ইসলামকে (৪৫) গ্রেফতার করা হয়। কুইন্স কাউন্টির অ্যাটর্নির অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত বিশদ বিবরণ দেয়া হয়। খবর বিবিসির।

অভিযুক্ত শাহেদুল ইসলাম ডেপুটি কনসাল জেনারেল হিসেবে সেখানে কর্মরত ছিলেন। তিনি কুইন্সের পাশেই জ্যামাইকা স্টেটে বসবাস করেন।

বাংলাদেশি ওই শ্রমিক যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরপরই অভিযুক্ত শাহেদুল ইসলাম তার পাসপোর্ট কেড়ে নেন এবং তাকে দিয়ে দৈনিক ১৮ ঘণ্টা কাজ করতে বাধ্য করান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল শামিম আহসান এ প্রসঙ্গে জানান, অভিযুক্ত শাহেদুল ইসলামকে ৫০ হাজার ডলার বন্ডে জামিন আদেশ দেয়া হয়েছে। তবে তিনি এখনও মুক্ত হননি। ১২ জুন সকালে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন তিনি।

নিউইয়র্কের কুইন্সবরোর অ্যাটর্নি রিচার্ড ব্রাউন এমন অভিযোগ খুবই উদ্বেগজনক বলে বর্ণনা করেছেন। আগামী ২৮ জুন শাহেদুল ইসলামকে আবারও আদালতে হাজির হতে হবে।

বাংলাদেশি দূতাবাসের এ কর্মকর্তা আনুমানিক ২০১২ সাল থেকে ২০১৬ সালের মে মাস পর্যন্ত কোনো ধরনের বেতন প্রদান না করেই মোহাম্মদ আমিন নামের এক ব্যক্তিকে তার বাড়িতে কাজ করতে বাধ্য করেন।

islam

মোহাম্মদ আমিন গত বছরের মে মাসে শাহেদুল ইসলামের বাড়ি থেকে পালিয়ে গেয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান।

ডিসট্রিক্ট অ্যাটর্নি রিচার্ড এ ব্রাউন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একজন কূটনীতিক তার বাড়িতে আরেকজনকে কাজে বাধ্য করতে শারীরিক জোর খাটিয়েছেন এবং হুমকি দিয়েছেন।’

‘প্রথমদিন থেকেই ওই কর্মীকে কাজে আটকে রাখার জন্য তার পাসপোর্ট জব্দ করা হয়। তাকে বেতন দিতে অস্বীকার করা হয় এবং অন্য দেশে থাকা তার পরিবারকে বিপদে ফেলার ভয়ভীতি দেখান হয়।’

‘অভিযোগ প্রমাণিত হলে নিশ্চিতভাবে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শাস্তি পেতে হবে’ বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাহেদুল ইসলামের ১৫ বছরের জেল হতে পারে।

এদিকে, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল শামিম আহসান বলেন, তারা মনে করেন অভিযোগকারী যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের আশায় এ ধরনের অভিযোগ এনেছেন যা সত্য নয়।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *