রাত ১০:৪৮ | ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২৩শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ব্রেকিং নিউজ

বরিশাল-৩ আসনের প্রার্থিতা নিয়ে দুই ভাগ হয়ে গেছে স্থানীয় বিএনপি

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির ‘ঘাটি’ বলে পরিচিত বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে কাকে প্রার্থী করা হবে তা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে কানাঘুষা চলছে। এ আসনে দলটির দুই ওজনদার নেতা আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তবে দুজনের বাড়ি দুই উপজেলায় হওয়ায় প্রার্থিতা নিয়ে দুই ভাগ হয়ে গেছে স্থানীয় বিএনপি।

একজন বিএনপির চেয়ারপারসনের আস্থাভাজন ও দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট সেলিমা রহমান। অন্যজন বিএনপির চেয়ারপারসনের আইন উপদেষ্টা ও দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।

স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এলাকায় বিদ্রোহ প্রার্থী হিসেবে পরিচিতি রয়েছে অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের। তিনি এর আগে বিএনপি থেকে মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হয়ে দুই মেয়াদে বিদ্রোহ প্রার্থী হিসেবে স্বতন্ত্র নির্বাচন করেছেন।

২০০৮ সালে জয়নুল আবেদীন স্বতন্ত্র নির্বাচন করায় বিএনপির প্রার্থী সেলিমা রহমানের নিশ্চিত বিজয় হাতছাড়া হয়। এতে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।  এর আগে ২০০১ সালেও দল থেকে মনোনয়ন না পেয়ে  স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন জয়নুল। তবে সেবার বিএনপি প্রার্থী মোশাররফ হোসেন মঙ্গু অল্প ব্যবধানে বিজয়ী হন।

সেলিমা রহমানের বাড়ি বাবুগঞ্জে। আর অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের বাড়ি মুলাদী। বাবুগঞ্জের স্থানীয় বিএনপি চায় সেলিমা রহমানকে প্রার্থী করা হোক। তাদের যুক্তি, সেলিমা রহমানের পরিবারে আগে থেকেই রাজনৈতিক ঐতিহ্য রয়েছে। তার বাবা পাকিস্তান আমল থেকে এই আসনে নির্বাচন করেছেন।

আসনটিতে ২০০৮ সালে সেলিমা রহমানই বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করায় সেলিমা রহমান হেরে যান। তার পরও বিএনপির চেয়ারপারসন তাকে (সেলিনা) প্রতিমন্ত্রী বানান। এ ছাড়া গত কয়েক বছর ধরে তিনি নিয়মিত এলাকায় আসছেন। স্থানীয় নেতারাও সাংগঠনিক কাজ করছেন তার সঙ্গে।

অন্যদিকে মুলাদী উপজেলা বিএনপি মনে করে অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনকে প্রার্থী করলে জয় পেতে সহজ হবে। তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি হওয়ায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা আগের চেয়ে বেড়েছে। এ ছাড়া দলের এই দুঃসময়ে তিনি স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মামলা-মোকদ্দমা বিনা পয়সায় করে দিচ্ছেন। চলতি মাসেই মুলাদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধনা দেয়ার জন্য প্রস্তুতি চলছে। একে আগামী নির্বাচনে তার প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে একটা শোডাউন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আসনটিতে আবার প্রার্থী হতে চান সাবেক সংসদ মোশাররফ হোসেন মঙ্গুও। তিনিও কাজ করে যাচ্ছেন।

বরিশাল জেলা দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ শাহিন  বলেন, সেলিমা রহমান ও অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন- দুজনের আবস্থানই ভালো। দুজনই কেন্দ্রীয় নেতা। প্রার্থী যাকেই করা হোক না কেন সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হবেন।

বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অহিদুল ইসলাম প্রিন্স বলেন, এ আসন থেকে নির্বাচন করার মতো তিনজন প্রার্থী আছেন। তাদের মধ্যে সেলামি রহমান ও অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন এগিয়ে। মোশাররফ হোসেন মঙ্গুও কাজ করে যাচ্ছেন, তবে আগের মতো অবস্থা এখন তার আর নেই।

প্রিন্স বলেন, ‘সেলিমা রহমান নিয়মিত এলাকায় আসেন। অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন একটু কম আসেন। তবে দুজনের যাকেই মনোনয়ন দেবে দল তার সঙ্গেই কাজ করব আমরা।’

মুলাদী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুস সত্তার খান  বলেন, এ আসনটি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। আওয়ামী লীগ কোনোদিনই আসনটি থেকে জিততে পারেনি। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির দুজন প্রার্থী (সেলিনা ও জয়নুল) ছিলেন বলে আসনটি হারায়।

একই কথা বলেন মুলাদী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদ মাহমুদ। তিনি আরো বলেন, এখানে যাকেই মনোনয়ন দেয়া হোক না কেন তিনিই বিজয়ী হবেন।

তবে অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিনের প্রার্থিতার পক্ষে তিনি। বলেন, ‘স্থানীয় নেতাকর্মীদের মামলা বিনা পয়সায় করে দেন। এরপর তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় তার জনপ্রিয়তা আরো বেড়েছে।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *