রাত ১২:৫১ | ৩রা পৌষ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ১৭ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
ব্রেকিং নিউজ

পূর্ণাঙ্গ রায় না পেলে কোনো জবাবই দেয়া যাবে না :আইনমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার : প্রথম কথা হচ্ছে রায়ে তো উনারা শুধু একটা ঘোষণা দিয়েছেন যে আপিলটা খারিজ করেছেন। পূর্ণাঙ্গ রায় না পেলে কোনো জবাবই দেয়া যাবে না যে সংসদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে কি না।

বিচারক অপসারণ ক্ষমতা সংসদে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে করা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায় আপিল বিভাগ বহাল রাখার প্রতিক্রিয়ায় এই কথা বলেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

সকালে আপিল বিভাগ এই রায়ে দেয়ার পর সচিবালয়ে এ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন আইনমন্ত্রী।

আপিল বিভাগের এই রায়টিকে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে উচ্চ আদালতে সবচেয়ে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগেও সংবিধানের সংশোধনী আদালতে অবৈধ ঘোষণা হয়েছে। তবে সেগুলো জিয়াউর রহমান এবং এরশাদের সামরিক শাসনামলে অথবা ১৯৯৬ সালে বিএনপি সরকারের আমলে করা সংশোধনী। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আনা কোনো সংধোধনী এবারই অবৈধ ঘোষণা হলো।

আপিল বিভাগের রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম স্পষ্টতই তার হতাশার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের আদি সংবিধানে ফিরে যাওয়ার যে ইচ্ছা ছিল সরকারের, সেটা আর হলো না।

আইনমন্ত্রীর বক্তব্যেও একই সুর। তিনি বলেন, ১৯৭২ সালের প্রথমে সংসদ সংবিধানের মধ্যে ৯৬ অনুচ্ছেদ সংযোজন করে। পরে একটা মার্শাল ল গভর্নমেন্ট বিচারক অপসারণে সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের ব্যবস্থা করে। সংবিধানের সেই আগের অনুচ্ছেদ সংসদ পুনঃস্থাপন করার পরে এটা কীভাবে সাংঘর্ষিক হয় এটা তিনি বুঝতে পারছেন না।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমি অপেক্ষা করবো পূর্ণাঙ্গ রায়ের জন্য। এরপর আমরা সিদ্ধান্ত নেব আমরা কী করবো।’

আনিসুল হক বলেন, ‘সারা বিশ্বে গণতান্ত্রিক দেশ ও উন্নত দেশ যেগুলো আছে, সেগুলোতে আমরা ৯৬ অনুচ্ছেদে যে কথাগুলো বলেছিলাম, একজন মাননীয় বিচারপতিকে রিমুভ করার জন্য ঠিক সেই জিনিসগুলিই আছে। সেই জন্যই ১৯৭২ সালে এটাকে সংবিধানের মধ্যে রাখা হয়েছিল। এবং পাশাপাশি সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের যে কথা বলা হয়েছে সেটা ১৯৬২ সালে আইয়ুব খান সরকার যে সংবিধান দিয়েছিলেন সেটার মধ্যে রাখা হয়েছিল।’

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আপিল বিভাগের এই রায়ে কোনো সমস্যা হবে না। কারণ আগেও সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল ছিল। ২০১৪ সালে এটি বাতিল করে সংসদের হাতে নেয়া হয়। এটি আবার আগের জায়গায় ফিরছে। তবে সব সিদ্ধান্তই হবে পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর।’

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *