রাত ১১:০৫ | ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২৩শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ব্রেকিং নিউজ

পছন্দের খাবার পেয়ে জেলে বেশ খোশমেজাজে কারনান

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক :  একে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, তার ওপর আবার বদমেজাজি, এমন চিন্নাস্বামী স্বামীনাথন কারনানকে শান্ত রাখতে প্রতিদিন সকালে তার পছন্দের ইডলি-সম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রেসিডেন্সি জেল কর্তৃপক্ষ। সকালের নাস্তায় ইডলি এবং দুপুরে সম্বর পেয়ে কারনান বেশ খোশমেজাজে। কারারক্ষীদের সঙ্গে সহযোগিতাও করছেন বলে শোনা যাচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার এসএসকেএম হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরে কারনানকে আনা হয় প্রেসিডেন্সি জেলের হাসপাতাল ওয়ার্ডে। সেখানে দ্বিতীয় তলার একটি বে়ডে ২৪ ঘণ্টা নজরদারিতে রয়েছেন তিনি। জেলের এক কর্মী বলেন, ‘ওই ঘরে কারনান ছাড়াও আরও দু-তিনজন বয়স্ক বন্দি রয়েছেন। তাদের সঙ্গে বেশ খোশগল্প করেই সময় কাটাচ্ছেন কারনান।’

জেল সূত্রে খবর, ভোর ছয়টার আগেই প্রতিদিন উঠে পড়েন কারনান। চা খেয়ে বেরিয়ে হাসপাতালের সামনের চত্বরে একটু হাঁটাহাঁটির পরে বাথরুমে যান। ফিরে এসে আবার চা। এর কিছুক্ষণ পরে জেলের ক্যান্টিনে বিশেষ ভাবে তৈরি ইডলি-সম্বর-চাটনি দেওয়া হয় তাকে। দুপুরে বরাদ্দ ভাত, সম্বর, টক দই, একটা তরকারি এবং কখনও কখনও ডিমসেদ্ধ। সন্ধ্যায় চা-বিস্কুট, রাতে মাংস-রুটি।

কারা দপ্তরের কর্মীরা জানান, জেলের নিয়ম অনুযায়ী, কোনও বন্দি যদি অসুস্থ হন, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে সংশ্লিষ্ট বন্দিকে সাধারণের থেকে আলাদা খাবার দেওয়া হয়। এক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে।

এক কারা কর্মকর্তা বলেন, ‘সকালে ইচ্ছে করেই তার পছন্দের ইডলি দেওয়া হচ্ছে। যাতে উনি জেলের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেন। আমাদের এখানে কেউ দোসা কিংবা উত্তপম বানাতে জানে না। তা হলে ওসবও দেওয়া হত।’

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিচারপতি কারনানকে গত ২০ জুন তামিলনাড়ুর কোয়ম্বত্তূরের একটি রিসোর্ট থেকে গ্রেপ্তার করে রাজ্য পুলিশের বিশেষ দল। ২১ জুন তাকে কলকাতায় এনে প্রেসিডেন্সি জেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়ায় ওই রাতেই তাকে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে রাতেই জেল হাসপাতালে ফিরিয়ে আনা হয়। ২২ জুন নানা শারীরিক সমস্যায় এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি।

চিকিৎসকেরা জানান, তার মাথা ঘোরার সমস্যা রয়েছে। ইসিজি-তে ইসকিমিক হার্টের সমস্যাও মিলেছে। এছাড়াও, তিনি বহু দিন ধরেই উচ্চরক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে ভুগছেন। তার ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিসঅর্ডার (সিওপিডি)-র সমস্যাও রয়েছে। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় গত বৃহস্পতিবারই তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এরপরেই তাকে প্রেসিডেন্সি জেলে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর থেকে তার ঠাঁই হয়েছে জেল হাসপাতালে। এখন অবশ্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে হার্টের সমস্যা ছাড়া অন্য কিছুর ওষুধ দেওয়া হচ্ছে না।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *