রাত ১২:৪৬ | ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২৩শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ব্রেকিং নিউজ

নিজে নির্বাচন করতে না পারলে ছেলে ইসরাককে নির্বাচনী মাঠে নামাতে পারেন খোকা

স্টাফ রিপোর্টার : বেশ কয়েক বছর ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন বিএনপির ডাকসাইটে নেতা সাদেক হোসেন খোকা। মামলা আর সাজা মাথায় নিয়ে বর্তমানে চিকিৎসা নিচ্ছেন সুদূর যুক্তরাষ্ট্রে। আপাতত দেশে ফেরার সম্ভাবনা নেই তার। আগামী সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন কি না তা নিয়ে নেতাকর্মী ও তার সমর্থকদের মধ্যে আছে ধোঁয়াশা।

তবে তার ঘনিষ্ঠজনরা বলছেন, চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন খোকা। সে ক্ষেত্রে নির্বাচন করতে তার কোনো বাধা থাকবে না। নানা শঙ্কার মধ্যেও তাই তার দেশে ফেরা নিয়ে আশার আলো দেখছেন তার সমর্থকরা।

কিন্তু উচ্চ আদালত থেকে সাজা স্থগিত না হলে বা খোকা নিজে এসে আপিল করতে না পারলে আগামী নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ থাকবে না বলে জানা গেছে।

নেতাকর্মীদের মুখে মুখে খবর হলো, শেষ পর‌্যন্ত নিজে নির্বাচন করতে না পারলে ঢাকা-৬ আসন থেকে ছেলে প্রকৌশলী ইসরাক হোসেনকে নির্বাচনী মাঠে নামাতে পারেন মহানগর বিএনপির এই সাবেক সভাপতি। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইসরাক তেমন সক্রিয় না হলেও এলাকার নেতাকর্মীদের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে তাকে নিয়ে আগ্রহ আছে।

টানা চারবার বিজয়ী সাদেক হোসেন খোকা ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসন থেকে বিএনপির টিকেটে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর অষ্টম সংসদ নির্বাচন পর‌্যন্ত টানা বিজয়ী হন তিনি। এর মধ্যে যুব ও ক্রীড়া, মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রী হিসিবেও দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৪ সালে অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন সাদেক হোসেন খোকা। ২০১১ সালে ঢাকা সিটি উত্তর-দক্ষিণে বিভক্ত হওয়ার আগ পর‌্যন্ত মেয়রের দায়িত্বে ছিলেন। দলের ভেতরে ও বাইরে প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি।

মেয়রের দায়িত্ব ছাড়ার পর তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন। এ ছাড়া ২০১৩-১৪ সময়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনে নাশকতার অভিযোগ কেরা বেশ কয়েকটি মামলায় আসামি করা হয় তাকে।

২০১৪ সালের ২৪ মে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন খোকা। ওই বছরের জুলাই মাসে তার শরীরে ক্যানসার ধরা পড়লে চিকিৎসকের পরামর্শে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি।

জানা গেছে, নিউইয়র্কের বিশ্বখ্যাত বিশেষায়িত ক্যানসার হাসপাতাল মেমোরিয়াল স্লোয়ান কেটারিংয়ের চিকিৎসক জেমস জে শিহ-এর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছেন খোকা।  বর্তমানে তিনি সপরিবারের অবস্থান করছেন সেখানে।

নির্দলীয় সরকার ছাড়া নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিলেও আন্দোলনের পাশাপাশি নির্বাচনের প্রস্তুতিও নিচ্ছে বিএনপি। দলটির নেতারা বলছেন, নির্দলীয় সহায়ক সরকারের দাবি আদায় করেই তারা নির্বাচনে যাবেন।

কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে নির্বাচনী আলাপ। আগ্রহী প্রার্থীরা শুরু করেছেন জনসংযোগ। নানা কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে দলে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে ব্যস্ত আগ্রহী প্রার্থীরা।

তবে ঢাকা-৬ (সূত্রাপুর-কোতোয়ালি) আসনের বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে আগাম নির্বাচনী আবহ এখনো ততটা চোখে পড়েনি। ঢাকার ২০টি আসনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই আসনের নিশ্চিত প্রার্থী সাদেক হোসেন খোকা। আপাতত তার বিকল্প আর কেউ নেই।  শেষ পর‌্যন্ত তিনি নির্বাচন করতে পারবেন কি না, সুস্থ হয়ে দেশে ফিরতে পারবেন কি  না, ফিরলেও আইনি বাধায় আটকে যাবেন কি না সেসব বিষয় নিয়ে চিন্তিত তারা।

সূত্রাপুর থানা ছাত্রদলের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে  বলেন, ‘খোকা এই আসনের নির্ধারিত প্রার্থী। সুষ্ঠু ভোট হলে বিপুল ভোটে জিতবেন তিনি। এটাও সবাই জানে। কিন্তু তিনি শেষ পর‌্যন্ত নির্বাচন করতে পারবেন কি না তা নিয়েই সবাই চিন্তায় আছি।’

ইতিমধ্যে দেশে খোকার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হয়েছে। নাশকতার মামলায় তার বিরুদ্ধে জারি হয়েছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। সব মিলিয়ে বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে ৩০টির বেশি মামলা আছে বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০১৫ সালের ২০ অক্টোবর খোকার ১৩ বছরের কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানার রায় দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩। একই সঙ্গে অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে তা দখলেও নেয়া হয়েছে।

দুদকের ওই মামলায় খোকার ছেলে ইসরাক হোসেন ও মেয়ে সারিকা সাদেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলেও চার্জশিট থেকে তাদের নাম বাদ দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শেষ পর‌্যন্ত সাদেক হোসেন খোকা দেশে ফিরে নির্বাচন করতে না পারলে তার ছেলেকে ঢাকা-৬ থেকে দল মনোনয়ন দিতে পারে। সংশ্লিষ্ট এলাকার নেতাকর্মী ছাড়াও দলের বিভিন্ন পর‌্যায়ে এ নিয়ে আলাপ-আলোচনা শোনা যাচ্ছে।

লন্ডনে উচ্চশিক্ষা শেষ করে আসা ইসরাক হোসেন বর্তমানে বেসরকারি টেলিভিশন বাংলাভিশনের উপব্যবস্থাপনা পরিচালকের (ডিমডি) দায়িত্ব পালন করছেন।

সরকারি কবি নজরুল কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন রিন্টু  বলেন, ঢাকা-৬ আসনে সাদেক হোসেন খোকা ভাইয়ের বিকল্প নেই। আমরা বিকল্প ভাবতেও চাই না। কারণ তিনি যেভাবে আমাদের গড়ে তুলেছেন তা তুলনাহীন। আশা করি তিনি দেশে ফিরে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করে দল নির্বাচনে অংশ নিলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

তারপরও যদি খোকার দেশে ফেরা না হয় তাহলে তার ছেলের প্রতিই আস্থা রাখতে চান দেলোয়ার হোসেন। বলেন, ‘আমাদের ভাগ্যে যদি না থাকে, তাহলে খোকা ভাইয়ের পরিবর্তে তার ছেলে ইসরাক ভাই আসলে আমরা তার সঙ্গে কাজ করতে পারব। তিনি তরুণ, এনারজেটিক এবং উচ্চশিক্ষিত মানুষ। তার সঙ্গে কাজ করতে পারলে আমাদের জন্যও ভালো লাগবে।’

সাদেক হোসেন খোকার দেশে ফেরা সম্পর্কে জানতে চাইলে তার ব্যক্তিগত সহকারী মনির হোসেন  বলেন, ‘আমরা আশা করি দ্রুতই পূর্ণ সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে আসবেন তিনি (সাদেক হোসেন খোকা)। আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে সক্ষম হবেন। দল নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে অবশ্যই নির্বাচন করবেন তিনি।

ইসরাক হোসেনের বিষয়ে জানতে চাইলে মনির বলেন, ‘আপনাদের মতো আমরাও নেতাকর্মীদের মধ্যে এমন কথাবার্তা শুনছি।বর্তমানে দেশের বাইরে থাকায় ইসরাক হোসেনের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *