রাত ১১:০৯ | ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২৩শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ব্রেকিং নিউজ

ঢাকা- টাঙ্গাইল মহাসড়কে দিনভর থেমে থেমে যানজট ॥ যাত্রী দুর্ভোগ চরমে

হুমায়ুন কবির,কালিয়াকৈর(গাজীপুর)প্রতিনিধি ॥
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় থেকে উভয় পাশে সোমবার ভোর থেকে দিনভর থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এ যানজট চন্দ্রা থেকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার দেরুয়া রেলপথ ক্রসিং এবং কালিয়কৈরের মৌচাক পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার এলাকা ছাড়িয়ে যায়। যানজটের কবলে যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এতে কখনো ঘন্টার পর ঘন্টা আটকে আবার কখনো থেমে থেমে দীর্ঘ যানজটে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা কখনো বৃষ্টিতে ভিজে আবার ভ্যাপসা গরমের মধ্যে ভোগান্তিতে যানজটে আটকা পড়ে অপেক্ষা করতে হয় যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের। তবে যানজট নিরশনে চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় ২-৩জন হাইওয়ে পুলিশকে বৃস্টির কারনে নিরব মূর্তির মত দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। পরিবহণ চালক, যাত্রী ও পুলিশ জানায়, সোমবার ভোররাত থেকে নিম্নচাপের প্রভাবে প্রবল বৃষ্টির কারণে পাকা সড়কের পাশে কাঁদার সৃষ্টি হয়। এতে উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী শত শত পণ্য বহনকারী ট্রাক চালকরা সড়কের পাশ দিয়ে গাড়ী নিতে না পারায় ধীরে ধীরে যানজটের সৃষ্টি হতে থাকে। এ যানজট চন্দ্রা ত্রিমোড় থেকে মির্জাপুর উপজেলার দেরুয়া রেলপথ ক্রসিং ও কালিয়াকৈর নবীনগর সড়কের বাড়ই পাড়া বাজার এবং গাজীপুরের কোনাবাড়ী পর্যন্ত দীর্ঘ হয়। এতে প্রায় উভয় পাশে ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে রোজার দিনে যানজটে পরে যাত্রীরা চরম ভোগান্তির স্বীকার হয়েছেন। পরিবহণ ও যাত্রীদের অভিযোগ,হাইওয়ে পুলিশের গাফলতি, চার লেনের কাজের কারণে, বৃষ্টি ও যানবাহনের চাপ বেশি থাকায় যানজটে তীব্রতা বাড়তে থাকে। দিনভর থেমে থেমে যানজটে সব ধরনের যানবাহন আটকা পড়ে ঘন্টার পর ঘন্টা যাত্রীরা হয়রানীর শিকার হয়েছে।ঢাকাগামী ট্রাক চালক আব্দুর রহিম জানান, ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা এলাকায় চার লেনের কাজের জন্য সোমবার ভোর থেকে সড়কের এক অংশ বন্ধ থাকায় যানবাহনগুলো ঠিকমত চলাচল করতে না পেরে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। আবার বৃষ্টির কারণে যানবাহনগুলো সড়ক থেকে নামতে না পারায় ধীরে চলার কারণে এ যানজট হচ্ছে। বাস চালক কছিম আলী জানান,রাস্তায় চার লেনের কাজ চলার কারণে যানবাহন ধীরে চলায় যানবাহনের চাপ বেড়ে ওই সড়কে থেমে থেমে যানজট লেগেই রয়েছে। বৃষ্টির কারনে হাইওয়ে পুলিশ বেশীরভাগ সময় যানবাহন নিয়ন্ত্রনে তেমন ভূমিকা রাখছেনা। আর কয়েক জন চন্দ্রা গোল ঘরে বসে বসে যানবাহন চলাচল দেখতে থাকে। তারা বৃষ্টির কারনে যানবাহনগুলো চলাচলে ও যানজট নিরসনে কোন কাজ করছে না। এ ছাড়া শাখা সড়ক থেকে যানবাহনগুলো মহাসড়কে উঠার কারণে যানজট ওই এলাকা ছাড়ছে না। যাত্রীবাহী বাসের চালকরা সড়কের উপর গাড়ী রেখে যাত্রী উঠা নামা করে ফলে যানজট বেড়ে যায়। বাসযাত্রী শাহীনুর রহমান জানান, মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রি-মোড়ে কাজলি সিএনজি ষ্টেশনের সামনে চন্দ্রা থেকে ঢাকা চলাচলকারী আজমেরি,ইতিহাস,ঠিকানা,শুভেচ্ছা,স্কাই লাইনসহ বেশ কয়েকটি ব্যানারের যাত্রী পরিবহনের বাস মহাসড়কে পার্কিং,সড়কের উপরেই ইউর্টাণ করার কারনে এবং অটো টেম্পু, সিএনজি ও ব্যাটারি চালিত অটো রিকসা চলাচলে নিষেধ থাকলেও ওই সড়কে অহরহ এ যানবাহনগুলো চলাচল করছে। ফলে প্রতিদিনই এ মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট লেগেই থাকছে। সালনা/কোনাবাড়ী হাইওয়ে থানার ওসি কাজী মোহাম্মদ হোসেন সরকার জানান, চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় একটি সড়কের উপর চার লেন কাজের ওভারফ্লাইয়ের কাজ শুরু করার কারণে এবং সকাল থেকে বৃষ্টির কারণে এ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। তবে আমাদের পুলিশের লোকজন যানজট নিরশনে ব্যস্ত রয়েছে।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *