রাত ১২:৪২ | ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২৩শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ব্রেকিং নিউজ

জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ চূড়ান্ত ১৬ জুলাই

স্টাফ রিপোর্টার :  আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) রোডম্যাপ ১৬ জুলাই চূড়ান্ত করা হবে। এরপর সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সংলাপ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ্। আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে  এসব তথ্য জানান। সচিব, আমরা বলতে পারি যে ১৬ জুলাই রোডম্যাপ চূড়ান্ত করা হবে। এছাড়া সুশীল সমাজেরটা ঠিক হয়েছে। সুশীল সমাজকে দিয়েই সংলাপের আয়োজনটা শুরু হবে।

কমিশন প্রাথমিকভাবে যে সিদ্ধান্তটি নিয়েছে সেটি হলো সুশীল সমাজের মাধ্যমে ৩০ জুলাই থেকে সংলাপ শুরু করা হবে।

সচিব আরো জানান, কমিশন জুলাই মাস ফরমাল এবং ইনফরমাল সব ধরনের মিটিংয়ে ব্যস্ত থাকবে। বিশেষ করে কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে। যে কর্মপরিকল্পনাটা করা হয়েছে সেটি বাস্তবায়ন নিয়ে অগ্রসর হওয়ার জন্য এই কর্মপরিকল্পনা যেটা খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে। এই নির্বাচনটা যাতে অংশগ্রহণমূলক, অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠান করা যায় এই উদ্দেশ্যে। এজন্য কমিশন চারটি সুনির্দিষ্ট কারণে চারটি কমিটি গঠন করেছে। কর্মপরিকল্পনায় ৭টি (আইনী কাঠামোসমূহ পর্যালোচনা ও সংস্কার; কর্ম-পরিকল্পনার উপর পরামর্শ গ্রহণ; সংসদীয় এলাকার নির্বাচনী সীমানা পুনঃনির্ধারণ;  জাতীয় পরিচয়পত্র প্রস্তুত করণ এবং বিতরণ; ভোটকেন্দ্র স্থাপন; নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন এবং নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নিরীক্ষা এবং নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট সকলের সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রম গ্রহণ) বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে। যেটা ১৬ জুলাই চূড়ান্ত করা হবে।

রোডম্যাপ চূড়ান্ত হলে তার কপি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের কাছে পাঠানো হবে এবং যারা সংলাপে আসবেন তাদেরকেও দেওয়া হবে। আর নিবন্ধনের বাইরের কোনো রাজনৈতিক দলকে ডাকা হবে না। খসড়া অনুযায়ী আগস্ট মাসের মধ্যেই রাজনৈতিক দলের প্রথম দফা সংলাপ শেষ হবে যোগ করেন সচিব।

সচিব আরো জানান, আমরা সংলাপের জন্য আমাদের যে গাইড লাইন থাকবে তার বাইরেও যদি রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ বা গণমাধ্যমের কেউ কোনো বিষয়ে মতামত দিতে চান সেটিও পারবেন। এইখানে আমরা কিছুটা উন্মুক্ত এবং উদার। যে যেই সুপারিশই দেন আমরা সেগুলো কালেক্ট করবো এবং যেটা আমাদের সবার জন্য গ্রহণযোগ্য হবে ততটুকু নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

নির্বাচন কমিশনকে সংবিধানে যতটুকু ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে এবং এর যে নির্বাচনী আচরণবিধি আছে সেটি যদি প্রপারলি ব্যবহার করা যায় তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচন করা অবশ্যই সম্ভব। এখানে প্রার্থিতা বাতিল থেকে শুরু করে অন্যান্য জরিমানা করার বিধানও রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করার জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী আছে বলেও উল্লেখ করেন সচিব।

অতীতে এসব আইন প্রয়োগে কোনো শিথিলতা ছিল কি না জানতে চাইরে তিনি বলেন, অতীতের রেফারেন্স আমি টানব না। কারণ অতীতে আমাদের অনেক ভালো ভালো নির্বাচন করার অভিজ্ঞতাও আছে। আমি আমার ৮ মাসে বড় ধরনের দুটি সিটি করপোরেশন (নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা) নির্বাচন করেছি। এছাড়া তিনটি সংসদ নির্বাচন করেছি। অন্তত বির্তমান কমিশনের অভিপ্রায় তারা কিন্তু নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার জন্য যে কোনো ধরনের শক্ত পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না এবং সে ধরনের আইনগত শক্তি তাদের আছে।

এছাড়া নির্বাচনী আইনের কোথাও কোনো কমতি থাকলে তা সংশোধনের উদ্যোগও নেবে কমিশন বলেও জানান সচিব।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *