সন্ধ্যা ৭:৩৫ | ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২১শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ব্রেকিং নিউজ

একটি কৃত্রিম পায়ের সংযোজন বদলে দিতে পারে পার্বতীপুরের মাহফুজার জীবন ধারা

মুসলিমুর রহমান, পার্বতীপুর প্রতিনিধি: একটি কৃত্তিম পা এবং সেই পায়ের সংযোজন দিতে পারে মাহফুজাকে তার জীবনে অন্তত ৮০ ভাগ স্বস্তির নিশ্চয়তা। হতে পারে তার ক্রাচে ভর করা পঙ্গু জীবনের কিছুটা অবশান। একটি কৃত্রিম পা এই হতদরিদ্র গৃহবধুর খুবই প্রয়োজন। এক সময় পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়ে মাহফুজা পা হারিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করে। ধারালো দার কোপে একটি পা হারিয়ে সে প্রায় ৭ বছর ধরে অনেকেরই দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। কোন রকম জীবনটা বেঁচে গেলেও ছুটি হয়টি পঙ্গু জীবনের। গাইবান্দা জেলার সাট পশ্চিম কোমরনই চৌধুরী পাড়ার দরিদ্র পিতা মাহবুব মিঞার কন্যা মাহফুজা খাতুনের বিযে হয় কিশোরী কালেই, আপন ফুফাত ভাই দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া গ্রামের মাসদুর রহমান বাবুর সাথে। বিয়েরপর ঘরকন্যা ভালই চলছিল তাদের। তারা এখন সাংসারিক নানা টানাপোড়েন ও অভাব অনটনের মধ্যে কখন যে কেটে যায় ৭ টি বছর। একদিন ভাগ্যের অন্বেষনে মাসুদ পাড়ি জমায় ঢাকা শহরে । যেখানে সে রিক্সা চালাত। কিছুদিনের মধ্যে স্বামীর সংঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেলে মাহফুজা ঢাকার উদ্দেশ্যে পা বাড়ায় । সেখানে এক গার্মেন্টেসে যোগ দিয়ে সময় পেলে স্বামীকে তালাস করতে থাকে। নিয়তির লীলায় স্বামীকেও খুজে পায় একদিন মাহফুজা। বাড়িতে ফিরে যায় দুজনে। কিন্তু কী যেন এক অদৃশ্য দেয়াল তাদের মাঝ খানে বাধা হয়ে দাড়ায়। ফের ভরে উঠে সংসারে হানাহানি ও নির্যাতন। যে কারনে ২০১১ সালের ১৯ জানুয়ারী বিকেল বেলা তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধারালো দার কোপে মাহফুজার পা কেটে ফেলা হয় । বিষয়টি মামলা মোকাদ্দমার পর্যায় গড়ায় এবং এ সবের অবশানও হয় এক সময়। কিন্তু অবসান হয়নি মাহফুজার পঙ্গু জীবনের। পঙ্গুত্বকে ঘিরে বর্তমানে তার জীবনে নেমে এসেছে অমানিশার আধার। কে দাড়াবে তার পাশে। কে দেবে তাকে একটি কৃত্রিম পা। এ পায়ের মূল্য যে অনেক টাকা। অসহায় নারীকে এক সময় সব ভুলে যেতে হয়। ক্ষমা করতে হয় অনেক কিছু। মেনে নিতে হয় জীবনের বাস্তবতাকে। মাতৃ পিতৃ হারা মাহফুজা এখন ৩টি শিশু সন্তান নিয়ে ভীষণ অসহায়। অনাহার অর্দ্ধাহারে কাটে তাদের জীবন। চলতি মাসের ১০ জুন কথা হয় তার সাথে পার্বতীপুর রেলষ্টেশনের অভার ব্রিজের নিচে। অভাবের সংসারে নানা প্রয়োজনে তাকে ছুটে বেড়াতে হয় এদিক সেদিক স্বজনদের কাছে। বর্তমানে তার খুবই প্রয়োজন একটি কৃত্রিম পা। স্থানীয় এমপি মন্ত্রীর মাধ্যমে প্রধান মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করেছেন অনেক বার। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রতিবন্ধী কমিটির সভাপতির কাছে লিখেছেন বহুবার। কিন্তু কার কান্না কে শোনে। অনেক এনজিও সংস্থার দুয়ারে পৌচেছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি। এখন ধুকে ধুকে জীবন কাটছে তার। সে নিরুপায়। এক সামাজিক সংগঠনে জনৈক ব্যক্তি একটি কৃত্রিম পা দেবে বলে ২০ হাজার টাকা দাবি করেছেন। জীবন যেখানে দেয়াল ঘড়ির পেন্ডুলামের মতো দেদুল্যমান সেখানে কোথায় পাবে সে এত টাকা। পঙ্গুত্ব ও দারিদ্র যখন তাকে পৌছে দিয়েছে অসহায়ত্বের শেষ সীমায়। কোন সুহৃদ ব্যক্তি যদি তাকে কৃত্রিম পা সংযোজনের সাহায্য করতে চান ০১৭৮৫২৭০০০০ নম্বরে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করেছেন মাহাফুজা।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *