সন্ধ্যা ৭:৩৩ | ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২১শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ব্রেকিং নিউজ

উন্নয়নের মূল লক্ষ্য আয় বৈষম্য দূর করা: প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার :  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমাদের উন্নয়নের মূল লক্ষ্য আয় বৈষম্য ও ধনী-দরিদ্রের মধ্যকার বৈষম্য দূর করা। আমরা দেশের প্রত্যেক মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চাই।’ বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) সকালে গণভবনে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর ২০১৭-২০১৮ বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তিস্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, “১৯৯৮ সালে আমরা বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করলাম। বিএনপি তখন বিরোধী দল। সংসদে বিএনপি নেত্রী ও তাদের অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের মুখ থেকে বেরিয়ে এলো— ‘বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া ভালো না, তাহলে বিদেশ থেকে সাহায্য পাবো না।’ আমার তখন আর সহ্য হলো না। আমি শুধু দাঁড়িয়ে বললাম, তার মানে বিদেশ থেকে সারাজীবন আমরা ভিক্ষা করে খাবো? ভিক্ষার হাত বাড়িয়ে থাকতে হবে আমাদের? এটা আমাদের নীতি না। আমাদের নীতি আমরা নিজের পায়ে দাঁড়াবো, ভিক্ষার ঝুলি হাতে নিয়ে থাকবো না।”
২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের বাজেট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এত বড় বাজেটের কথা কেউ হয়তো ভাবতেও পারেনি। কাজেই এই বাজেট বাস্তবায়ন করার সময় এখন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের অর্থনৈতিক নীতিমালাকে ১০ বছর পরপর যুগোপযোগী করতে হবে। আমরা ভবিষ্যতে কী করবো একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের সেই পরিকল্পনা থাকতে হবে। সেজন্য আমরা সিআরআই নামে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান চালু করেছিলাম। ২০০১ সালের পর আবার ক্ষমতায় এলে তখন আমাদের অর্থনৈতিক নীতিমালা কী হবে, সেই দায়িত্ব দিয়েছিলাম অর্থমন্ত্রীকে। সেই সঙ্গে আমরা কিছু পরিবর্তন আনি। কারণ আন্তর্জাতিক পযায়ে কিছু পরিবর্তন ছিল।’
সরকারি কর্মকর্তাদের আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদে বলা আছে, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হচ্ছেন সরকারি কর্মচারীরা। তাই আপনাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে সংবিধান ও জনগণের কাছে। জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের উদ্দেশে আমরা কাজ করি। আপনারা যদি সেই আন্তরিকতা নিয়ে জনগণের সেবায় কাজ করেন তাহলেই আমরা সফল হতে পারবো।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার হিসেবে আমরা দেশটাকে কীভাবে উন্নত করবো, সে বিষয়ে আমাদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকতে হবে। সংসদ সদস্য হিসেবে আমরা যখন নির্বাচিত হয়ে আসি তখন প্রত্যেকেই কিন্তু সংসদের কাছে দায়বদ্ধ। সংসদ সদস্যরা দায়বদ্ধ জনগণের কাছে। সংবিধানের সপ্তম অনুচ্ছেদে স্পষ্ট বলা আছে, প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগণ। কাজেই জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হয় আমাদের। প্রতি পাঁচ বছর পর যখনই নির্বাচন হবে আমরা জনগণের কাছেই যাবো। তাদের কাছে নির্বাচনী ইশতেহারের কতটুকু বাস্তবায়ন করতে পেরেছি এবং আগামী পাঁচ বছর কী করবো সেই জবাবদিহি করতে হয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একুশ বছর পর অনেক চড়াই-উড়াই পেরিয়ে, আন্দোলন-সংগ্রাম ও জেল-জুলুমের অত্যাচার সহ্য করে ১৯৯৬ সালে আমরা সরকার গঠন করলাম। আমাদের ঘোষণাই ছিল— আমরা জনগণের সেবক। রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের একটি অর্থনৈতিক নীতিমালা ছিল। তৃণমূলের ক্ষুধার্ত ও দরিদ্র মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করাই ছিল আমাদের মূল লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য যা যা দরকার সেই পরিকল্পনা নিয়েই আমরা কাজ করি।’
১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পরবর্তী সময়ের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের জীবন থেকে ২১টি বছর চলে গিয়েছিল। একের পর এক অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল আর সামরিক শাসন দেখেছি। সামরিক শক্তি দিয়ে যারা দেশ শাসন করে আর যাই হোক বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের দিকে তাদের দৃষ্টি ছিল না। কীভাবে তাদের কাছে ক্ষমতা থাকবে, আয়েশি জীবনযাপন করবে, সম্পদের পাহাড় গড়বে এবং ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতে পারবে সেইসব দিকেই মনোযোগ ছিল তাদের। কারণ ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতে পারলেই সম্পদের পাহাড় গড়ে বিলাসবহুল জীবনযাপন করা যায়। সেজন্য তারা দুর্নীতি এবং নানান অপকর্মের সুযোগ তৈরি করেছিল।’

শেখ হাসিনা বলেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট পরবর্তী ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত অন্ধকার যুগের অবসান ঘটিয়েছি আমরা। কিন্তু দুর্ভাগ্য ২০০১ সালে নির্বাচনে আমরা ফিরে আসতে পারিনি। সেই ফিরে না আসার পেছনেও কারণ ছিল। সেটা হলো দেশের সম্পদ গ্যাস বিক্রির জন্য চাপ। সম্পদের মালিক বাংলাদেশ, বিক্রি করবে আমেরিকা, আর কিনবে ভারত। তখন আমার একটাই কথা ছিল, এটা বাংলাদেশের মানুষের সম্পদ। আগে মানুষের চাহিদা পূরণ হবে, ৫০ বছরের মজুদ থাকবে। এর অতিরিক্ত যদি হয় তাহলে আমরা বিক্রি করতে রাজি। তবে তার আগে জরিপ করে দেখতে হবে সেই পরিমাণ গ্যাস আছে কিনা। শুধু ক্ষমতার লোভে মুচলেকা দিয়ে আসবো, এই রাজনীতি আমি শিখিনি। এই রাজনীতি আমি করি না। ফল হলো আমরা নির্বাচনে ভোট বেশি পেয়েছিলাম, জনগণের সমর্থনও আমরাই বেশি পেয়েছিলাম। কিন্তু সরকার গঠন করতে পারিনি। তখন অনেক অত্যাচার ও নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের।’

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *