রাত ৩:০৮ | ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২১শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ব্রেকিং নিউজ

আশা-নিরাশার দোলাচলে থেরেসা মে

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক :  ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টি (ডিইউপি) এর সমর্থন নিয়ে থেরেসা মে’র নেতৃত্বে কনজারভেটিভরা আদৌ মাইনরিটি সরকার গঠন করতে পারছে কিনা তার সুরাহা এখনও হয়নি। বরং দুই পক্ষ চুক্তিতে পৌঁছাতে পারছে কিনা তা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য আসছে। শনিবার সন্ধ্যায় ডাউনিং স্ট্রিটের পক্ষ থেকে বলা হয়, দুই দল চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। আবার রাতে পাল্টা বিবৃতি দিয়ে চুক্তির খবর অস্বীকার করেছে ডিইউপি। এদিকে, সানডে মিররকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লেবার নেতা জেরেমি করবিন বলেছেন, এখনও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী তিনি।

৮ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর তুমুল চাপে রয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও কনজারভেটিভ নেতা থেরেসা মে। হাউস অব কমন্সে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিতের জন্য কনজারভেটিভদের ডিইউপি’র এমপিদের সমর্থন প্রয়োজন। নির্বাচনে ডিইউপি পেয়েছে ১০টি আসন। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিতে কনজারভেটিভদের প্রয়োজন ৮টি আসন। আর তাই সমর্থন নিশ্চিতে দলটির সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ডাউনিং স্ট্রিট। ডিইউপির সঙ্গে দফায় দফায় চলছে বৈঠক।

শনিবার (১০ জুন) সন্ধ্যায় ডাউনিং স্ট্রিটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নীতিগতভাবে একটি চুক্তির ব্যাপারে দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে। তবে রাতে পাল্টে যায় পরিস্থিতি। দুই পক্ষের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, তাদের মধ্যকার চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি। এখনও আলোচনা চলছে।

ডিইউপি’র সঙ্গে একত্রিত হয়ে সরকার গঠনকে জোট সরকারের চুক্তি নয় বরং একে ‘কনফিডেন্স এন্ড সাপ্লাই’ চুক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছে ডাউনিং স্ট্রিট। এ চুক্তির আওতায় বাজেটসহ এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে অপেক্ষাকৃত ছোট দলটি বড় দলটিকে সমর্থন দেবে। বিনিময়ে তাদের কিছু সুবিধা দেওয়া হবে।

শনিবার মধ্যরাতে ডিইউপি’র পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আরলিন ফস্টারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ডিইউপি কনজারভেটিভ পার্টির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেছে। মহা এ চ্যালেঞ্জের সময়ে কিভাবে আমরা জাতির জন্য স্থিতিশীলতা নিয়ে আসতে পারি তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ পর্যন্ত যতটুকু আলোচনা হয়েছে তা ইতিবাচক।’

ডাউনিং স্ট্রিটের প্রথম বিবৃতিটিকে ভুল আখ্যা দিয়ে স্কাই নিউজের সাংবাদিকের করা একটি টুইট রিটুইট করেছে ডিইউপি।

এক ঘণ্টার মাথায় ডাউনিং স্ট্রিটও তাদের অবস্থান থেকে সরে আসে। তারা জানায়, যখন সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে তখন দুই দলই এর বিস্তারিত সামনে নিয়ে আসবে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এ ধরনের কোনও চুক্তি হলে আমরা সেটিকে স্বাগত জানাব। এটি পুরো দেশে স্থিতিশীলতা ও নিশ্চয়তা নিয়ে আসবে।’

কেন আগের ঘোষণা পাল্টাতে হলো সে ব্যাপারে ডাউনিং স্ট্রিট কোনও ব্যাখ্যা দেয়নি।

ডাউনিং স্ট্রিটের প্রথম বিবৃতির পর লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা টিম ফ্যারন ‘রুদ্ধদ্বার কক্ষে হওয়া’ চুক্তির বিস্তারিত অবিলম্বে প্রকাশের জন্য থেরেসা মে’র প্রতি আহ্বান জানান। নদার্ন আয়ারল্যান্ডের সিন ফেইনের নেতা মাইকেল ও’নিল বলেন, ‘ডিইউপি জনগণের আগ্রহের সঙ্গে প্রতারণা করেছে’। নতুন আয়োজনের  জন্য কাঁদতে হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

লেবার পার্টির নেতা করবিন বলেছেন, সরকার সামনে এগিয়ে যাবে এমন কোনও ভরসা নেই। তাদেরকে থামাতে লেবার পার্টিও যথাসাধ্য চেষ্টা করবে। ডিইউপি দলটি ইউনিয়নপন্থী, ব্রেক্সিটপন্থী এবং সামাজিকভাবে কনজারভেটিভ। ২০১৭ সালে দলটির ঘোষিত মেনিফেস্টোতে ব্যক্তিগত কর ভাতা, জাতীয় ন্যুনতম মজুরি বৃদ্ধি, ট্রাইডেন্ট পরমাণু অস্ত্রের নবায়নসহ যেসব প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল সেগুলোর প্রায় সব কনজারভেটিভদের মতোই।

তবে বিমান যাত্রীদের শুল্কমুক্তি, পর্যটন ব্যবসায় ভ্যাট কমানোসহ কয়েকটি ইস্যুতে তারা আবার ভিন্নমত পোষণ করে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ব্যাপারে এখনও আশাবাদী করবিন। সানডে মিররকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, ‘আমি এখনও প্রধানমন্ত্রী হতে পারি। এটা খুবই সম্ভব।’ করবিন বিশ্বাস করেন একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় মে’র অবস্থান খুবই নড়বড়ে। তাই তার প্রশাসনকে নামিয়ে ফেলার চেষ্টা করবেন তিনি।

ব্রিটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে ২৬২ আসন হয় করেছে লেবার পার্টি। থেরেসা মে’র কনজারভেটিভ প্রার্থী জিতেছে ৩১৮টি আসন। তবে সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্ত আসন নেই কারোরই।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *