রাত ৩:১৫ | ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ২১শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ব্রেকিং নিউজ

আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিলেও নির্বাচনের হাওয়া বইছে বিএনপি শিবিরে

স্টাফ রিপোর্টার :আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিলেও নির্বাচনের হাওয়া বইছে বিএনপি শিবিরে। আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে আগ্রহী নেতাদের অনেকেই নিজ নিজ এলাকায় সরব উপস্থিতির মাধ্যমে নিজেদের জানান দিচ্ছেন। সেটা মফস্বল এলাকাগুলোতে যেমন প্রযোজ্য, তেমনি রাজধানী ঢাকার সম্ভাব্য প্রার্থীদের বেলায়ও। ঈদসহ নানা উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে তাদের ব্যানার, ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে সংসদীয় এলাকা। চলছে জনসংযোগও।

আগামী জাতীয় সংসদ ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতার খবরাখবর  নিয়ে ঢাকাটাইমসের এই আয়োজনে আজ থাকছে ঢাকা-৫ আসন।

ঢাকার ৪৯টি থানায় সংসদীয় আসন ২০টি। জাতীয় সংসদের ৩০০টি আসনের মধ্যে ১৭৪ থেকে ১৯৩ পর্যন্ত আসন ঢাকা জেলার নির্বাচনী এলাকায়। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি আসন ঢাকা-৫। ডেমরা ও যাত্রাবাড়ী নিয়ে গঠিত এই আসনে নব্বই-পরবর্তী সময়ে দুবার বিজয়ী হন বিএনপির প্রার্থী। আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়তে চান বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা।

শোনা যাচ্ছে, এই আসন থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন সাবেক এমপি সালাউদ্দিন আহমেদ। তার কর্মী-সমর্থকরা আশা করছেন তাকেই আগামী নির্বাচনে দল থেকে মনোনয়ন দেয়া হবে।

অন্যদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতা নবিউল্লাহ নবী (পদত্যাগী), কেন্দ্রীয় গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও পেশাজীবী নেতা অধ্যক্ষ সেলিম ভুইয়া, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহসভাপতি ও ডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের দুবারের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন রতন। এ ছাড়া সাবেক কমিশনার মীর হোসেন মীরুর নামও শোনা যাচ্ছে।

বিএনপির টিকেটে ১৯৯১ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সালাউদ্দিন আহমেদ। রাজনৈতিক মাঠে ‘দৌড় সালাউদ্দিন’ নামে তার পরিচিতি আছে।

২০০৩ সালে পানি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানের দাবিতে  সালাউদ্দিনের নির্বাচনী এলাকার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। ক্ষোভে ফুঁসে ওঠা মানুষকে বিক্ষোভ বন্ধের হুমকি দিলে তখনকার এমপি সালাউদ্দিনকে ধাওয়া দেয় জনতা। তিনি দৌড়ে এলাকা ছাড়েন- এমন ছবি পত্রিকায় প্রকাশিত হলে ‘দৌড় সালাউদ্দিন’ নাম মানুষের মুখে মুখে ছড়ায়।

এদিকে ২০১০ সালে গত ২৮ জানুয়ারি দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশ না মানায় তাকে দল থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছিল। ওই বছরের ২৭ জানুয়ারি তৎকালীন মেয়র সাদেক হোসেন খোকা রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে সমাবেশ ডাকেন। একই দিন মহানগরীর থানায় থানায় বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি দেন সালাউদ্দিন ও মিরপুরের সাবেক এমপি এস এ খালেক। খোকার সমাবেশ ভণ্ডুল করতে এই পাল্টা কর্মসূচি দেয়ার অভিযোগ উঠলে ক্ষুব্ধ খালেদা জিয়া বহিষ্কার করেন সালাউদ্দিনকে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমেদ আগামী নির্বাচনে লড়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করার পাশাপাশি মাঠের রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরির চেষ্টা করছেন। ইতিমধ্যে তার ছেলে তানভীর আহমেদ রবিন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ পেয়েছেন। শোনা যাচ্ছে, রবিন ঢাকা-৪ আসন থেকে নির্বাচন করার জন্য দলের মনোনয়ন চাইবেন।

ঢাকা-৫ আসনে বিএনপির আরেক পরিচিত মুখ নবিউল্লাহ নবী। ঢাকা মহানগর বিএনপির রাজনীতিতে বিশেষ করে ডেমরা-যাত্রাবাড়ী এলাকায় তার বেশ প্রভাব রয়েছে। একসময় সরকারবিরোধী আন্দোলনে ওই এলাকায় তার অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে বিগত আন্দোলনে তেমন সক্রিয় অংশগ্রহণ না থাকলেও তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে অর্ধশতাধিক।

নবীর রাজনৈতিক জীবনের শুরু জিয়াউর রহমানের সময়ে। ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমানের গঠিত জাগো দলের যুব শাখার বৃহত্তর ডেমরা থানার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। এরপর বিএনপির ডেমরা-যাত্রাবাড়ী থানার সভাপতি ছিলেন প্রায় ২৫ বছর। ঢাকা মহানগর বিএনপির গত কমিটির সদস্যও ছিলেন তিনি।

তবে কিছুদিন আগে ঢাকা মহানগর বিএনপির দক্ষিণের কমিটিতে তাকে সহসভাপতি করা হয়। জানা গেছে, তিনি সাধারণ সম্পাদক হওয়ার আশা করেছিলেন। পরে তিনি দল থেকে পদত্যাগ করারও ঘোষণা দেন।

পদত্যাগ করার কারণ হিসেবে তখন তিনি গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘স্বাস্থ্যগত অবস্থা ভালো না। জীবনটা তো আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়েই গেল। আর কত। আমি আর রাজনীতি করব না। সামাজিক কার‌্যক্রমের মধ্যে নিজেকে জড়িত করব।’

সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে জানতে একাধিকবার তার ব্যক্তিগত নম্বরে যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন ধরেননি।

এদিকে ডেমরা ইউনিয়নের টানা দুবারের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন রতন (রতন চেয়ারম্যান) ৯০ সাল থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে। বৃহত্তম ডেমরা থানা বিএনপির সহসভাপতি তিনি। ২০০৩ সাল থেকে টানা দুবার তিনি ডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।

গত সরকারবিরোধী আন্দোলনে তার বিরুদ্ধে মামলা হলেও উচ্চ আদালত থেকে প্রথমে জামিন নেন। পরে জনপ্রতিনিধির বিষয়টি বিবেচনা করে মামলার আসামি থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয় বলে রতন চেয়ারম্যান জানান।

সংসদ নির্বাচনে লড়াই করতে চান- এমন খবরের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে দলের খেদমত করতেছি। এলাকার মানুষ ও নেতাকর্মীরাও চান নির্বাচনে প্রার্থী হই। দল থেকে মনোনয়ন দিলে আশা করি ধানের শীষের সম্মান রাখতে সক্ষম হব।’

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *