রাত ১২:৪৫ | ৩রা পৌষ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ | ১৭ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
ব্রেকিং নিউজ

আগৈলঝাড়ায় গৈলা স্কুলে চাহিদাকৃত টাকা না দেয়ায় পরীক্ষা দিতে পারেনি শিক্ষার্থীরা

অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) থেকে :সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রীদের বিনাবেতনে পড়ার সুযোগ থাকলেও বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চাহিদানুযায়ী বেতন ও আনুষাঙ্গিক ধার্যকৃত টাকা দিতে না পারায় গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষায় অনেক শিক্ষার্থী অংশ নিতে পারেনি। এনিয়ে এলাকায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদরে মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। অবশেষে বিষয়টি জানার পরে এডিসি (শিক্ষা ও আইসিটি) ও ইউএনও’র হস্তক্ষেপে পরীক্ষা বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেবার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।
স্কুল শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গৈলা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী রূপা আক্তার, তন্নী খানম ও অষ্টম শ্রেণী হাফসা আক্তার, আয়শা খানম গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সময়সূচী অনুযায়ী দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা দিতে স্কুলে আসে। স্কুল কর্র্তৃপক্ষ ওই সকল শিক্ষার্থীদের স্কুল বেতন ও অনুসাঙ্গিক ধার্যকৃত ফি পরিশোধ করতে না পারায় তাদের পরীক্ষায় অংশ নিতে দেয়নি। অভিভাবকরা ক্ষোভের সাথে জানান, গৈলা স্কুলে উপজেলার অন্যান্য স্কুলগুলোর চেয়ে দুই থেকে তিনগুণ টাকা বেতন ধার্য করে। যা এলাকার গরীব লোকজনের পক্ষে চালানো সম্ভব হয়না। ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের কাছে গিয়েও এর কোন প্রতিকার পাচ্ছেনা অভিভবাবকরা।
প্রধান শিক্ষক জহুরুল ইসলাম বলেন, তিনি জেলা শহরে ট্রেনিং-এ রয়েছেন। এমন ঘটনা ঘটার কথা নয়। বিষয়টি জেনে তিনি সাংবাদিকদের জানাবেন বললেও তিনি আর ফোন করেননি।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সরোয়ার সরদার বলেন, এমন ঘটনা তারও জানা নেই। শ্রেণী শিক্ষকেরা এবিষয়ে ভাল বলতে পারবেন। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন মোল্লা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে না পারার পুরো বিষয়টি অস্বীকার করে উল্টো সাংবাদিকদের কাছে পরীক্ষা দিতে না পারা শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সাথে কথা বলার জন্য ফোন নম্বর চেয়ে নেন।
খবর পেয়ে বরিশাল জেলা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আবুল কালাম তালুকদার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশ্রাফ আহম্মেদ স্কুলে গিয়ে উক্ত ঘটনার সত্যতা পান। তারা বিষয়টি নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার পর যারা সকালের পরীক্ষা দিতে না পারেনি তাদের পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

 

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *